নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশায় বাড়ছে ভোগান্তি

২০০৯ সালের মাঝামঝি সময়ে রাজশাহীতে আসে ইজিবাইক। তখনো সড়কে চলতো টেম্পু। পর্যায়াক্রমে ইজিবাইকের দাপটে বিলুপ্ত হয় টেম্পু। এরপরে একচেটিয়ে রাজত্ব কায়েক করে ইজিবাইক। তার কিছু দিনের মধ্যে সড়কে আসে দুই আসনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। ফলে যাত্রীদের আগ্রহ ও চালকের সুবিধায় উঠে যায় প্যাডেলের রিকশা।
প্রথম দিকে নতুন ইজিবাইকের দাম ছিল ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। আর অটোরিকশার দাম ছিল ৫০ হাজারের ঘরে। কিন্তু ১৫ বছরে সেই ইজিবাইকের দাম ২ লাখ ৬০ থেকে ৮০ হাজারে ঠেকেছে। অটোরিকশার দাম ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে এসব গাড়িগুলো সড়কে নামানো হচ্ছে। অনুমোদনহীন অটো লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকের হাতে থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
রাজশাহীতে দুই ধরনের ব্যাটারিতে চলে গাড়িগুলো। একটি পাউডার ব্যাটারি। অপরটি লিথিয়াম ব্যাটারি বা পানি ব্যাটারি। পাউডার ব্যাটারি চেয়ে লিথিয়ামের দাম বেশি। চলেও বেশি। তবে সর্বসাকুল্যে দেড় থেকে দুই বছরের বেশি চলে চলে না এসব ব্যাটারি। নষ্ট হওয়ার পরে ব্যাটারিগুলো আবার অর্ধেক দামে বিক্রি করেন চালকেরা। তাতে লাভ-ক্ষতির বিবেচনায় অদলবদল করা। অনেকেই ব্যাটারি বিক্রির টাকার সঙ্গে যোগ দিয়ে নতুন ব্যাটারি তুলছেন গাড়িতে।
রাজশাহী জেলায় ইজিবাইক ও অটোরিকশা কত চলাচল করে তার সঠিক পরিসংখান নেই। তবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) ১০ হাজার ইজিবাইক এবং ৬ হাজার অটোরিকশা নগরে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। এই অটোগুলো রাসিক লাল ও সবুজ রঙ করে দিয়েছে। এই দুই রঙের অটোগুলো দিনে দুই সিফটে চলাচল করে। তবে রাসিকের দেওয়া পরিসংখানে একমত নয় খোদ চালকরাই।
অপরদিকে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় আরও ৫০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করে। তবে বিপুল সংখ্যক এই গাড়ির অনুমোদন না থাকায় সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয়নি। গড়ে প্রতিটি উপজেলায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করে। উপজেলা পর্যায়ের এই গাড়ির চালকরা জীবিকার তাগিদে শহরে চলে আসে। তাই তুলনামূলক উপজেলার সড়কগুলোতে এই গাড়ি কম।
৪ বছর ধরে অটো চালান রাজিব ইসলাম। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের হিসাবের বেশি ইজিবাইক ও অটোরিকশা রাজশাহী নগরীতে চলাচল করে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদহীন গাড়িগুলো নগরীতে চলাচল করে। তবে এই গাড়িগুলো ট্রাফিক পুলিশের চেকপোস্ট এড়িয়ে চলে। রাসিক নিবন্ধন না দিলেও প্রতিদিন নতুন নতুন এসব ব্যাটারিচালিত গাড়িগুলো সড়কে নামছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ৯৬ বর্গকিলোমিটারের নগরীতে প্রায় ৬০ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করে। যদিও সিটি কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশন আছে মাত্র ১৬ হাজার। চ্যাসিস নম্বর না থাকায় একই রেজিস্ট্রেশন (নম্বর) দিয়ে চলছে একাধিক গাড়ি। ফলে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, লক্ষ্মীপুর মোড়, গোরহাঙ্গা রেলগেট, বন্ধগেট, কাদিরগঞ্জ-দড়িখরবোনা মোড়, বর্ণালীর মোড়, লোকনাথ স্কুল মার্কেট মোড়, রাজশাহী কলেজ গেট, সোনাদিঘীর মোড়, আলুপট্টির মোড়, কাজলা মোড়, বিনোদপুর বাজার, সালবাগান বাজার, নওদাপাড়া বাজার ও কোর্ট বাজারগুলোতে অটোরিকশার জট লেগেই থাকে। এই জটলা থামাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ।
ব্যাটারিচালিত দুই শ্রেণির অটোরিকশা চলে রাজশাহীতে। এর মধ্যে ৮ জন যাত্রী ধারণের ইজিবাইক আছে প্রায় ৩০ হাজার এবং দুইজন যাত্রীবাহী ছোট অটোরিকশা আছে আরও প্রায় ৩৫ হাজার। সবমিলিয়ে অন্তত ৬০ থেকে ৬৫ হাজার। এগুলোর মধ্যে ১৪ হাজার ২৬২টি ইজিবাইকের নিবন্ধন দেওয়া হয় ২০১১-১৩ সালের মধ্যে। পরে সব নিবন্ধন বাতিল করে ২০২১ সালে অনলাইনে আবেদন জমা নিয়ে ৮ হাজার ৯০০টির ইজিবাইককে নিবন্ধন দেয় রাসিক। সর্বশেষ ইজিবাইক-অটোরিকশা মিলে ১৬ হাজারের নিবন্ধন রয়েছে। তবে আগের সব নিবন্ধন বাতিল হলেও সেই অটোরিকশাগুলো ভুয়া নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রাস্তায় রয়েছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজশাহী মহানগরে ইজিবাইক (অটো) আছে ১০ হাজার। আর অটোরিকশা আছে ৬ হাজার। এই সংখ্যক অটো ও অটোরিকশা চালানোর লাইসেন্স (অনুমোদন) দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়াও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩০০টির মতো গ্যারেজ রয়েছে।
উজ্জল কুমার নামে এক স্কুলশিক্ষক বলেন, যানজটের মূল কারণ অতিরিক্ত অটো ও অটোরিকশা। অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি অটো-অটোরিকশা চলাচল করে সড়কে। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়া চালকের প্রশিক্ষণ না থাকায় যেনতেনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে ঘটে দুর্ঘটনা। অটোরিকশা চালকরা বেপরোয়া। সড়কে যেখানে-সেখানে থেমে যায়। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালাতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত যানজটের কারণে নগরবাসী এবং পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনিয়ন্ত্রিত গতি ও বেপরোয়া চালকদের কারণে দুর্ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সমাধানের জন্য পদক্ষেপ হিসেবে অনেকেই বলছেন- পরিকল্পিত স্ট্যান্ড স্থাপন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশাগুলো রাস্তায় চলাচল করলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। আইন ও নিয়ম-কানুনের প্রয়োগ করতে হবে। অটোরিকশা চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
বিআরটিএ রাজশাহী সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন বলছে ব্যাটারিচালিত অটো রয়েছে ১০ হাজার। আসলেই কি তাই? সড়কে দেখে মনে হয় না। বাস্তবে আরও বেশি রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময় শুনি একটা কাগজে কয়েকটা অটো চলে। কারণ অটোগুলোর চ্যাসিস নম্বর নেই। অনায়াসে সড়কে নামানো যায়। এর কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তবে আমাদের কাছে ব্যাটারিচালিত অটো বা অটোরিকশার কোনো তথ্য নেই। কারণ এটি অনুমোদনহীন গাড়ি।

এ বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) এর সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ বলেন, একটা অটো চার্জ দিতে ১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। এটা ব্যাটারি নতুন অবস্থায়। তবে পুরোনো ব্যাটারিতে বেশি বিদ্যুৎ লাগে। কত অটোর গ্যারেজ আছে সেটার পরিসংখ্যান আপনাকে (প্রতিবেদক) নিতে হলে আরও সময় দিতে হবে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুখপাত্র রফিকুল আলম বলেন, গেল এক বছরে রাজশাহী জেলায় অটো চুরি কেন্দ্রিক ১২টি মামলা হয়েছে। এছাড়া দুটি দস্যুতাসহ সর্বমোট ১৪টি মামলা হয়েছে জেলার বিভিন্ন থানায়। এনিয়ে পুলিশ কাজ করছে।
রাজশাহী বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
জয়পুরহাট
জেলায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটো এবং ভ্যানের সংখ্যা, যার অধিকাংশই নিবন্ধন ছাড়াই চলছে। জয়পুরহাট পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটো ও রিকশার সংখ্যা ১ হাজার ৪৬১টি। এর মধ্যে রিকশা ৮৬০টি, টাউন সার্ভিসের ছোট অটোরিকশা ৩৩০টি এবং শহরের বাইরে চলাচলকারী বড় অটোরিকশা ২৭১টি।
তবে জয়পুরহাট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যানুসারে, শুধুমাত্র জেলা শহরেই টাউন সার্ভিসের অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৮০০টি এবং শহরের বাইরে চলাচলকারী বড় অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৫০০টি। এদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো নিবন্ধন নেই।
জয়পুরহাট রিকশা ও ভ্যান চালক ইউনিয়নের তথ্য আরও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল করছে। এর মধ্যে জেলা শহরেই রয়েছে প্রায় ২ হাজার রিকশা এবং জেলাজুড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ব্যাটারিচালিত ভ্যান। শহরের বেশিরভাগ রিকশারই নিবন্ধন নেই, আর ভ্যানগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামমাত্র মূল্যে এক বছরের জন্য সনদ সংগ্রহ করে চলছে।
আরও পড়ুন
দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালানো খাইরুল ইসলাম বলেন, আমি ১৯৯৪ সাল থেকে রিকশা চালাই। ২০১৪-১৫ সালের দিকে যখন ব্যাটারিচালিত রিকশা নামে তখন বগুড়া থেকে কিনে আনা হতো। এখন এসব রিকশা জয়পুরহাটেই তৈরি হয়। রিকশার যেসব যন্ত্রপাতি তা আমাদের দেশেই তৈরি হয় বলে জানি। কিন্তু ব্যাটারি চায়নার তৈরি বললেও তা হয় না, আমাদের দেশেই তৈরি করা হয়। যদি চায়নার ব্যাটারি হতো তাহলে এক বছরের বেশি সময় চালানো যেতো। তবে আমরা সেসময় ধরে চালাতে পারি না। তার আগেই আবার নতুন ব্যাটারি তুলতে হয়।
জয়পুরহাট জেলা ট্রাফিকের ইন্সপেক্টর মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটো বেড়েছে। দিনদিন যানজট বাড়ছে। আবার শহরের প্রধান সড়কের মাঝে ঘন ঘন ইউটার্ন দেওয়া হয়েছে। এতে গাড়িগুলো পারাপার হচ্ছে। এসব রিকশা ও অটো যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। আমাদের জনবলও কম, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছাড়া সব জায়গায় ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পৌরসভা এসব গাড়ির নিবন্ধন দিয়ে থাকে। সেজন্য পৌরসভা থেকে বিষয়গুলো দেখা প্রয়োজন।
পাবনা
পাবনায় অটোরিকশার দাপটে যানজটে নাজেহাল জেলাবাসী। একদিকে জনগণের ভোগান্তি চরমে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর পড়ছে এর ভয়াবহ প্রভাব। অটোরিকশা গ্রামীণ রাস্তা, মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়ে গেছে।
পাবনা পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাবনা শহরাঞ্চলে বৈধ অটোরিকশা প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি। বৈধ রিকশা ৩ হাজার। আর অবৈধ অটোরিকশা প্রায় ৮ হাজারের মতো।
অপরদিকে পাবনা জেলা রিকশা, অটোবাইক মালিক সমিতির কার্যালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার ৯টি উপজেলাতে বৈধ অবৈধ মিলে মোট ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। আর সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে ৮০১০টির মতো। বেশিরভাগই অবৈধ।
পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত পাবনায় সড়ক দূর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫২ জন। নিহত আহতরা বেশিরভাগই অটোরিকশার যাত্রী। মহাসড়কে চলাচল করা অবস্থায় ট্রাক ও বাসের ধাক্কায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে তাদের।
পাবনার দোগাছীর ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, অসুস্থ মাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে হাসপাতাল রোডে ব্যাপক অটোরিকশার চাপ। আধা কিলোমিটার রাস্তায় আসতে প্রায় ১ ঘণ্টার মতো লেগেছে। এতো অটোরিকশা দেখেই ফাঁপর লেগে আসে।
আবুল হোসেন নামে একজন রিকশাচালক বলেন, ৫ সদস্যের পরিবার। প্রতিদিন ১ হাজার টাকা কামাই না করলে সংসার চলে না। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে গাড়ি চালিয়ে সন্ধ্যা হলে বাড়িতে ফিরি। সারাদিন যা কামাই করি বাড়িতে ফেরার সময় সব ফুরে যায়। চাল, আটা, চিনি ও মসলাসহ সব কিছুরই দাম অনেক। কোনোমতো বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
পাবনা জেলা রিকশা, অটোবাইক মালিক সমিতির আহ্বায়ক পাভেল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, পাবনা জেলার সব উপজেলা মিলে ৫০ হাজারেরও বেশি অটোরিকশা রয়েছে। পাবনা পৌরসভায় আমাদের জানামতে বৈধ অটোরিকশা প্রায় ৭ হাজারের মতো।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আহমাদ আল জাবির বলেন, প্রতিদিন এসব এরিয়াতে অটোরিকশার জন্য আধা মেগাওয়াট বাড়ছি বিদ্যুৎ খরচ হয়। বর্তমানে সরকার একটা সিস্টেম করেছে যেটার মাধ্যমে আমরা অটোরিকশার মালিকদের লাইসেন্সধারীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা মিটার দিচ্ছি। যার একটি অটোবাইক আছে সে তার বাড়ির মিটারে চার্জ দিয়ে থাকেন। আর যার বাড়তি অটো রয়েছে সে আরেকটি মিটার নিয়ে চার্জ দিচ্ছে। সরকারিভাবে আইনগত সমস্যা নেই। তবে আমাদের এখানে এতো পরিমাণ অটোরিকশা হওয়াতে বিদ্যুতের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পাঁচটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। তবে এই জেলায় কতটি নিবন্ধিত অটোরিকশা চলাচল করছে তার তালিকা নেই পাঁচটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে এবং তিনটি পৌরসভায় এখনো শুরু হয়নি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম। শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় চালু আছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন কার্যক্রম।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধিত অটোরিকশার পরিমাণ ৯১টি এবং রিকশা বা ভ্যানের পরিমাণ ৭৩টি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার পরিমাণ ২১৪টি এবং রিকশা বা ভ্যান ৯৬টি এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্বন্ধিত অটোরিকশা ছিল ৭৮৫টি। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার অটোরিকশা চলাচল করে জানা গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিআরটিএর তথ্য মতে, এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ৩১টি দুঘর্টনা সংগঠিত হয়েছে। এতে ৩১ জন নিহত এবং ১০জন আহত হয়েছেন।
অটোচালক রাকিব জানান, আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় আয় বেশি হতো। কিন্তু অটোর পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে আয় কিছুটা কমে গেছে। দিনে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকার মতো আয় হয়। এছাড়া নিজের গাড়ি হলে গ্যারেজে চার্জের জন্য দিতে ২০০ টাকা আর ভাড়া গাড়ি হলে মালিককে দিতে হয় ৫০০ টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. শাহজামান হক বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেশির ভাগ চালক অপ্রশিক্ষিত। কোথাও থামতে হবে তারা সেটা খেয়াল করে না। নিজের খেয়াল খুশিমতো তারা অটোরিকশা চালায়। এতে শহরে দিন দিন দুঘর্টনার পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়াও দিন দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অটোরিকশার পরিমাণ বাড়ছে। তাই গাড়িগুলোর রুট ঠিক করে দেওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রশাসন কালারিং গ্রেড করার উদ্যোগ নিতে পারে। নিদিষ্ট কালারের গাড়ি নির্দিষ্ট এলাকায় যাতায়াত করবে। তাহলে আশা করি শহরের যানজট এবং দুঘর্টনার পরিমাণ কমবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ বলেন, গত অর্থবছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিবন্ধিত অটোরিকশার পরিমাণ কমে গেছে। প্রশাসনিক বিভিন্ন জটিলতা ও লোকবল কম থাকার কারণে এই নিবন্ধনের পরিমাণ কমে গেছে। তবে এই অর্থবছরে নিবন্ধিত অটোরিকশার পরিমাণ বাড়ানোর চেষ্টা করবো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের টিআই-১ শফিকুল ইসলাম বলেন, শহরে কতগুলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলবে সেটি নির্ধারণ করবে পৌর কর্তৃপক্ষ অথবা জেলা প্রশাসন। আমরা বিভিন্ন মিটিংয়ে এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। উনারা এটি নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিলে আসলে আমাদের কিছুই করার থাকে না।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎতের চাহিদা বাড়ছে। মানুষ যত সৌখিন হবে বিদ্যুৎতের চাহিদা ততো বাড়বে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎতের কোনো ঘাটতি নেই।
সিরাজগঞ্জ
অটোরিকশার কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনা, ভোগান্তি ও জনদুর্ভোগ নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, যত্রতত্র পার্কিং ও অদক্ষ চালকের কারণে সড়কে নেমেছে বিশৃঙ্খলা।
রিকশা চালক রহিম রায়হান, মো. ভুট্টো ও গোলাম মাওলা জানান, রিকশার চাকা না ঘুরলে পেটে ভাত জুটবে না। অনেক চালক বেপরোয়া হলেও সবাইকে দায়ী করা উচিত নয়। নিয়ম মেনেই গাড়ি চালানোর চেষ্টা করেন তারা।

ভদ্রঘাট শামছুন মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, শহরে মানুষের চেয়ে রিকশার সংখ্যাই যেন বেশি। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরাও রিকশা চালাচ্ছে, যার ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার লাইসেন্স শাখার লাইসেন্স পরিদর্শক মো. মারুফ জানান, বর্তমানে সিরাজগঞ্জে ৪ হাজার ৭০৩টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (শহর) এম এ জাফর বলেন, আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পৌরসভা, বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রবণতা বেশি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে নাগরিকরা সুবিধা পাবেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জ দেওয়া অবৈধ ছিল। ২০১৭ সালের পর সরকার এটি বৈধতা দিয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া যায়। বিদ্যুতের পর্যাপ্ত যোগান রয়েছে। কেউ আবাসিক মিটার ব্যবহার করলে অভিযোগ পেলে তা বাণিজ্যিক মিটারে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়।
নাটোর
নাটোরেও বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। যাতায়াতের সহজ বাহন হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও যানজট, দুর্ঘটনা এবং বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে নতুন সংকট তৈরি করছে এই তিন চাকার যান। ফলে শহরের সড়কে প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।
নাটোর পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি অর্থবছরে অটোরিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হয়েছে। গত তিন মাসে ৩৫৬টি রিকশা নিবন্ধিত হয়েছে। পৌরসভার লক্ষ্য চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার অটোরিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা। তবে নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে আরও বিপুল সংখ্যক রিকশা এ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যাবে । নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত এসব যানবাহনের কারণে শহরের রাস্তায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনা।
শহরের স্টেশন বাজারের ব্যবসায়ী রাসেল আহমেদ বলেন, সারাদিন দোকানের সামনে অটো দাঁড়িয়ে থাকে। ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারে না, রাস্তাও আটকে যায়। ফলে চলাচলের সমস্যার পাশাপাশি ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।
নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নিপা খাতুনের অভিযোগ, প্রায়ই কলেজের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় অটো দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে রাস্তা সরু হয়ে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় এবং কলেজ শুরু এবং ছুটির সময় কলেজের সামনে গাড়ির জটলা তৈরি হয়। এসব গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি যথেষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির দাবি জানান তিনি।
এদিকে শহরে বাড়তি অটো রিকশার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ। গাড়ির সংখ্যা বাড়লেও শহরে এ যানবাহনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে চালকরা যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছেন, এতে রাস্তা সরু হয়ে যানজট আরও প্রকট হচ্ছে।
নাটোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার অটোরিকশা শহরে চলছে। দুই একটি প্রাইভেট কার ছাড়া শহরের সড়কে প্রায় সবই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। বিশেষ করে নিচাবাজার, একতার মোড় ও স্টেশন রেলগেট এলাকায় প্রতিদিনই যানজট তৈরি হচ্ছে। যা নিয়ন্ত্রণে নিরলস কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ।
আরও পড়ুন
এদিকে ব্যাটারিচালিত হওয়ায় রাতভর এসব অটোরিকশা চার্জ দিতে বিদ্যুতের ওপরও চাপ বাড়ছে। নাটোর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. ফখরুল আলম জানান, সমিতির আওতায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ১২০ থেকে ১৩০ মেগাওয়াট। এর একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে অটোরিকশা চার্জে। তবে এ খাত বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করেছে।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নাটোর পৌরসভার প্রশাসক আসমা খাতুন বলেন, শহরে অটোরিকশার নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অটোরিকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অটো নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের আগে অটোরিকশার সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তাই নিবন্ধন শেষ হলে প্রয়োজনীয় অটোস্ট্যান্ড ও পার্কিংসহ অন্যান্য বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নওগাঁ
নওগাঁ পৌরসভার ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের যানবাহন শাখার তথ্য অনুযায়ী পৌরসভায় রেজিস্ট্রেশনকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা ১৫০০টি এবং ব্যাটারিচালিত ৩ চাকার ইজিবাইকের সংখ্যা ৬৮৫টি। শহরে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করে। যার মধ্যে ২ হাজারের বেশি অটোরিকশা এবং দেড় হাজারের বেশি ইজিবাইকের নিবন্ধন নেই।
এছাড়া জেলার ১১ টি উপজেলায় প্রায় লক্ষাধিকের ওপরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা এবং ভ্যান চলাচল করে। জেলায় কী পরিমাণ অটোরিকশা কিংবা ইজিবাইক রয়েছে এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো তথ্য নেই। এসব ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা।
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন এবং আহত হয়েছিলেন ৩২ জন। এর মধ্যে গত ১ বছরে ব্যাটারিচালিত আটোরিকশা, ভ্যান এবং ইজিবাইকের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন ও আহত হয়েছিলেন ৭ জন ব্যক্তি।
নওগাঁয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো) এবং নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মতে, জেলায় বর্তমানে কোনো লোডশেডিং নেই। চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুৎতের সরবরাহ সমান রয়েছে।
নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং ২ এর মতে, বর্তমানে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৬৬ মেগাওয়াট। এরমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ৯৬ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর চাহিদা ৭০ মেগাওয়াট। বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোরও কোনো লোডশেডিং নেই। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর বিদ্যুৎ সরবরাহকৃত এলাকায় অটো চার্জিং স্টেশন রয়েছে ১০৩টি, যেখানে গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দেড় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে কোনো চার্জিং স্টেশন নেই।
এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন পাবনা প্রতিনিধি রাকিব হাসনাত, জয়পুরহাট প্রতিনিধি চম্পক কুমার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি আশিক আলী, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি নাজমুল হাসান, নওগাঁ প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম শামীম ও নাটোর সংবাদদাতা আশিকুর রহমান।
আরএআর