রাজবাড়ীতে পাম্পে জ্বালানি তেল সংকট, যানবাহন চালকদের ক্ষোভ

রাজবাড়ীতে হঠাৎ করেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের প্রকট সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন চালকরা। কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক।
তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিপোতে তেল না থাকার কারণে তারাও তেল পাচ্ছে না। এই কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।ত বে কবে নাগাদ এই সংকট শেষ হবে তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজবাড়ী শহরের পলাশ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তাদের ফিলিং স্টেশনে দুটি অকটেনের বুথ থাকলেও একটিতে তেল শেষ হয়ে গেছে। বাকি একটি দিয়ে তারা তেল দিচ্ছেন। তেলের সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাম্পে মোটরসাইকেলসহ প্রাইভেট কার ও সরকারি গাড়িগুলোর সিরিয়াল তৈরি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মোটরসাইকেল চালকদের তেল নিতে হচ্ছে।
রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, তারা ১০০ টাকার বেশি মোটরসাইকেল চালকদের পেট্রোল ও অকটেন দিচ্ছেন না। তেল সংকটের কথা বলে তারা তেল বিক্রি সীমিত করেছেন।
রাজবাড়ী শহরের নতুন বাজারের কাজী ফিলিং স্টেশনে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। তারা মোটরসাইকেল চালকদের ২০০ টাকার বেশি পেট্রোল ও অকটেন দিচ্ছেন না। তেল বিক্রি সীমিত করায় চালকদের সাথে পাম্পের কর্মচারীদের বাকবিতণ্ডা হচ্ছে।
পলাশ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বিপুল কুমার বৈদ্য বলেন, গত বৃহস্পতিবার মেঘনা পেট্রোলিয়াম থেকে আমাদের জ্বালানি তেল দেইনি। আমি রাজবাড়ীর ৩১টি সরকারি অফিসের গাড়িতে তেল দিয়ে থাকি এজন্য আমার চাহিদা বেশি। মেঘনা পেট্রোলিয়াম গত বৃহস্পতিবার আমাকে তেল দেয়নি। এ কারণে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল গতকাল থেকে নেই, অকটেন থাকলেও কিছু সময় পর আর থাকবে না, ডিজেলেরও একই অবস্থা।
রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দুর্জয় বলেন, ডিপোতে তেল নেই। এ কারণে আমরাও তেল পাচ্ছি না। মেঘনা ও যমুনা দুটো ডিপোই খালি। মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম থেকে যারা তেল নেয় তাদের পাম্পগুলো এখন খালি। আমাদের তেলের যা মজুত আছে তা রোববার পর্যন্ত চলতে পারবে না। রোববার ডিপো থেকে আমরা পাবো কিনা এর নিশ্চয়তা নেই। তাই মনে হচ্ছে রোববারের আগেই পাম্প বন্ধ হয়ে যাবে।
রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে অকটেন নিতে আসা এক চালক বলেন, আমি পাম্পে ১ হাজার টাকার তেল নিতে এসেছিলাম, তারা আমাকে ১০০ টাকার দিয়েছে। এখন এই তেল দিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারবো কিনা বলতে পারছি না।
আরেক মোটরসাইকেল চালক কামাল হোসেন বলেন, পাম্পগুলো তেলের দাম বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
পলাশ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা আরেক চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি আধাঘণ্টার বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনো তেল পাইনি।
কাজী ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের নির্দেশনা রয়েছে মোটরসাইকেলে ১০০-২০০ টাকার তেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে ৫০০ টাকার তেল ও কৃষকদের ১০ লিটারের বেশি তেল দেওয়া যাবে না। পাম্পের মালিক পক্ষ থেকে আমাদের এমন নির্দেশনা রয়েছে। তেল সংকটের কারণে আমাদের এমন নির্দেশনা মানতে হচ্ছে।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/আরএআর