• সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • সারাদেশ
    জেলার খবর
  • খেলা
  • বিনোদন
  • জবস

বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. কামরুল ইসলাম

গোপনীয়তার নীতিব্যবহারের শর্তাবলিযোগাযোগআমাদের সম্পর্কেআমরাআর্কাইভবিজ্ঞাপন

৯৫ সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোন, ঢাকা ১২১২।

+৮৮০ ৯৬১৩ ৬৭৮৬৭৮

phone+৮৮০ ১৩১৩ ৭৬৭৭৪২

whatsapp+৮৮০ ১৭৭৭ ৭০৭৬০০

info@dhakapost.com

বিজ্ঞাপন

  1. এক্সক্লুসিভ

অস্থিরতার মধ্যে উধাও ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট!

মিজানুর রহমান
মিজানুর রহমান
১৩ মার্চ ২০২৬, ২৩:০৯
অ+
অ-
অস্থিরতার মধ্যে উধাও ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, নেপথ্যে পুরনো সিন্ডিকেট!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই সুযোগে এক ডিপো থেকে অন্য ডিপোতে নেওয়ার পথে অন্তত চার গাড়ি বিমানের জ্বালানি (জেট ফুয়েল) গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতি গাড়িতে ১৮ হাজার লিটার করে মোট ৭২ হাজার লিটার তেল চুরি করে খোলা বাজারে পাচার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক (এভিয়েশন) মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বাধীন একটি পুরনো সিন্ডিকেট এই চুরির নেপথ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তাদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল সাধারণত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে, দাম কম হওয়ায় দুর্বৃত্তরা এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার (১১ মার্চ) নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি গাড়ি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। গাড়িগুলোর নম্বর হলো : ৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ এবং ৪১-০৬৯৮। কাগজে-কলমে গাড়িগুলো কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে বলে দেখানো হলেও বাস্তবে তেল অন্যত্র পাচার করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি খাতের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর একটি পুরনো সিন্ডিকেট অন্তত ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরি করেছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে চারটি তেলের গাড়ি গায়েব করে দেওয়া হয়, যা পরে খোলা বাজারে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্মা অয়েলের একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে জানান, গাড়িগুলো গোদনাইল ডিপো থেকে ঠিকই ছেড়েছিল, কিন্তু কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি। বিষয়টি জানাজানির পর অনেকেই অস্বস্তিতে রয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিষয়টি ভিন্নভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সচরাচর তেল বিক্রির সময় কিছু কোম্পানিকে প্রতি লাখে প্রায় এক হাজার লিটার তেল কম দেওয়া হয়। সেই ঘাটতি থেকে জমা হওয়া তেল দিয়ে এই চুরির হিসাব মেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

dhakapost

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ পুরনো। চাকরিজীবনের বেশিরভাগ সময় ডিপোতে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে গত বছরের ২০ জানুয়ারি সতর্ক করে চিঠি দেয় পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (পরিচালন ও পরিকল্পনা) মো. আসিফ মালেকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনার ডিপোর সার্বিক পরিচালন প্রক্রিয়া এবং নিয়ম-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা কোম্পানির ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। ইতোপূর্বে এ বিষয়ে অবহিত করা হলেও প্রত্যাশিত সংশোধন লক্ষ্য করা যায়নি। অতএব, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠানের সকল নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ পুনরায় পরিলক্ষিত হলে প্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন
জ্বালানি তেলের অস্থিরতার মধ্যে বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম
জেট ফুয়েলের ২১০০ কোটি বকেয়া রেখে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা ঘোষণা বিমানের

অভিযোগ উঠেছে, এই সতর্কবার্তার পরেও সাইদুল হক দমে যাননি। সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে চুরির অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে বিপিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে আহ্বায়ক, বিপিসির ব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. বদরুল ইসলাম ফকিরকে সদস্য এবং পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তা (ইঞ্জি.) কে এম আবদুর রহিমকে সদস্য সচিব করা হয়।

এই চুরির নেপথ্যে কুর্মিটোলা ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নাম উঠে এসেছে। গাড়িগুলো কাগজে-কলমে ডিপোতে পৌঁছালেও বাস্তবে তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন অন্য কোম্পানিকে তেল কম দিয়ে জমে থাকা জ্বালানির মাধ্যমে এই বিশাল ঘাটতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে

বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি যথাসময়ে প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৮ মার্চ কমিটি পদ্মা অয়েলের কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে এবং তেল চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে পদ্মা অয়েল কোম্পানির কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হককে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমি এইমাত্র অভিযোগটি শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

dhakapost

জানা গেছে, সনদ ও স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সাইদুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ডিপোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে থাকাকালীন তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সময় জাল বেতন সনদ দাখিল করেন। ওই সনদে তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ শহীদুল আলমের স্বাক্ষর জাল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত চারটি ভাউচারে কোম্পানির সাবেক উপ-মহাব্যবস্থাপক আখতার উদ্দৌজা এবং সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মহিউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছিল।

অভিযুক্ত সাইদুল হকের বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও এবং এর আগে সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিপিসি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তারা যথাসময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি, যা কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এবং ডিপোতে চলমান নৈরাজ্যকে ফুটিয়ে তুলেছে

এই ঘটনায় ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সাইদুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়, কিন্তু পরে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয়নি। কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা ছাড়াই ২০২০ সালে তাকে উপ-ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এছাড়া চাঁদপুর ডিপোর ইনচার্জ থাকাকালীন তেলে ভেজাল মেশানো এবং ডিলারদের কম তেল দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল।

dhakapost

আরও পড়ুন
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম
নতুন বছরে শুরুতে কমলো জেট ফুয়েলের দাম

এদিকে, দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাইদুল হক পদ্মা অয়েল কোম্পানির সাবেক শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং বরখাস্তকৃত নেতা মো. আমিনুল হকের ছোট ভাই। ঢাকার বনানী এলাকায় সাইদুল হকের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। একটিতে তার পরিবার থাকে এবং অন্যটি ভাড়া দেওয়া। পাশাপাশি তিনি একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন।

এমআর/এমএআর/

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

তেলের বাজার দরবিমানদুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগদুদকরাজধানীর খবরচট্টগ্রামের খবরবাংলাদেশ

ফলো করুন

MessengerWhatsAppGoogle News

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

খোলা সয়াবিন ২২০ টাকা, ব্র্যান্ডের তেলেও অঘোষিত দাম বৃদ্ধি

খোলা সয়াবিন ২২০ টাকা, ব্র্যান্ডের তেলেও অঘোষিত দাম বৃদ্ধি

তেল বাজারে অস্থিরতা : যে ‘শর্তে’ রুশ তেল কেনার অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

তেল বাজারে অস্থিরতা : যে ‘শর্তে’ রুশ তেল কেনার অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে অস্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

শুক্রবারও মধ্যপ্রাচ্যের ২৪ ফ্লাইট বাতিল

শুক্রবারও মধ্যপ্রাচ্যের ২৪ ফ্লাইট বাতিল