কিডনি রোগ নির্ণয় সহজ হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল

বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরস্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিডোর) অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) আয়োজিত এ সভায় বক্তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয়ের ব্যয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই সময়মতো রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, নিডোর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কেনান, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. একেএম খালেকুজ্জামান দিপু, বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, একটি পরিবারের জন্য কিডনি রোগের চিকিৎসা বহন করা অত্যন্ত কঠিন। এই ব্যয়ভার শুধু রোগী বা তার পরিবারের ওপর নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিডনি রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, কিডনি রোগ নির্ণয় তুলনামূলকভাবে সহজ। একটি সাধারণ প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রাথমিকভাবে কিডনি রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। যদি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ এবং ডায়াবেটিস কেয়ার সেন্টারগুলোতে এ ধরনের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সহজলভ্য করা যায়, তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে। এতে রোগের জটিলতা কমানোও সম্ভব হবে।
বক্তারা জানান, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর পরিচালিত একটি সিস্টেমিক রিভিউ অনুযায়ী বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার প্রায় ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটির বেশি মানুষের দেশে এ হার বিবেচনায় নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ। প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন। বর্তমানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির বিকল্প নেই। ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে অনেকাংশে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এবারের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে।
এমএল/এমএসএ