বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারতের চিন্তিত হওয়া উচিত নয়

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক শুল্ক-সমঝোতা স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভারতের চিন্তিত হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার বীনা সিক্রি। তার মতে, এ চুক্তির ফলে ভারতের অর্থনীতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
গতকাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে বীনা সিক্রি বলেন, “আমার মতে, দু’টি কারণে এই চুক্তি নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া নিষ্প্রোয়োজন। প্রথমত, যেসব স্থানে মার্কিন বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদশে শূন্য শুল্ক পেতে পারে— সেগুলো হলো কৃত্রিম সুতা, তুলা থেকে তৈরি সুতা বা সুতি কাপড়ের সুতা এবং সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত তুলা বা তা থেকে তৈরি সুতা।”
“দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে এসব পণ্যের জন্য ভারতের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। অনেক বছর ধরে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ভারতের কাছ থেকে এসব পণ্য কিনছে বাংলাদেশ এবং এটি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য লাভজনক, কারণ ভারতের কাছ থেকে পণ্য কিনলে পরিবহনবাবদ ব্যয় খুবই কম।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং বিমান ক্রয় সংক্রান্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। সেই চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ। এই বাবদ প্রাথমিক ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে এএনআইকে বীনা সিক্রি বলেন, “তারা (বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার) বিমান কেনার জন্য যে বিপুল বাজেট করেছে, সেই অর্থ আসবে কোত্থেকে? মার্কিন বোয়িং যদি কিনতে হয়, তাহলে তাদেরকে আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে হবে। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতির যে অবস্থা, তাতে বড় ঋণ নিলে অর্থনীতি আরও ভঙ্গুর হবে।”
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সেই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্ক হবে ১৯ শতাংশ।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্ব করেছেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।
সূত্র : এএনআই
এসএমডব্লিউ