লেবানন ইস্যুতে সৌদি-বাহরাইনের পথে আমিরাত-কুয়েত

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৩১ এএম


লেবানন ইস্যুতে সৌদি-বাহরাইনের পথে আমিরাত-কুয়েত

ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলা নিয়ে লেবাননের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পর্কের অবনতি হয়েছে

লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদাহির এক মন্তব্যের জের ধরে দেশটি থেকে নিজেদের কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কুয়েত। ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলা সম্পর্কে মন্তব্যের জের ধরে শনিবার (৩০ অক্টোবর) এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশ দু’টি।

শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। এর আগে এই ইস্যুতে শুক্রবার রিয়াদে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে সৌদি সরকার। এর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদির পথ অনুসরণ করে একই পথে হাঁটে বাহরাইনও। রিয়াদ বলছে, লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল অত্যন্ত ‘আক্রমণাত্মক’।

এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সৌদি আরবের প্রতি কিছু লেবানিজ কর্মকর্তা অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিবাদে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশটির প্রতি সংহতি জানাতে লেবানন থেকে কূটনীতিকদের প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছে ইউএই।’

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আরব আমিরাতের নাগরিকদেরও লেবাননে ভ্রমণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এর আগে একই কারণে লেবাননের দূতকে দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কুয়েত কর্তৃপক্ষ। নির্দেশনায় বলা হয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যে লেবানিজ কূটনীতিকদের দেশে ফিরে যেতে হবে। এছাড়া বৈরুতে অবস্থানরত নিজেদের দূতকেও ফিরে আসার নির্দেশ দেয় কুয়েত।

লেবানন ইস্যুতে সৌদি আরব ও বাহরাইনের কঠোর পদক্ষেপের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একই পথ অনুসরণ করলো সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। অর্থাৎ ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের হামলা সম্পর্কে মন্তব্যের জের ধরে লেবাননের বিরুদ্ধে চারটি উপসাগরীয় দেশ অভিন্ন পদক্ষেপ নিলো।

তবে লেবানেন বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পদক্ষেপ একটু বেশি কঠোর। কারণ রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের পাশাপাশি লেবানন থেকে যেকোনো ধরনের পণ্য আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব লেবাননের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলেও লেবানন কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে উপেক্ষা করার কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিকে লেবানন থেকে সৌদি আরবে যেসব মাদক চোরাচালান হয়ে আসছে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বৈরুত কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলেও সৌদি আরব অভিযোগ করেছে। পাশাপাশি লেবাননে সৌদি নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে রিয়াদ সরকার।

আলজাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদাহি বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আগ্রাসন ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধ করার সময় হয়েছে।

লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে গত ৫ আগস্ট কোরদাহি এই সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং গত সোমবার তা সম্প্রচার করা হয়।

এদিকে চারটি উপসাগরীয় দেশ অভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ায় লেবানন কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দেশের চলমান সংকট নিরসনে এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে লেবানন উপসাগরীয় দেশগুলোর সহায়তার ওপর বেশ ভালো ভাবে নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদি ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। ক্ষমতাচ্যুত এই প্রেসিডেন্টকে ফেরাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের শুরুর পর ইয়েমেনের রাজনৈতিক সংকটের অবসান হওয়ার পরিবর্তে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে ইয়েমেনে কার্যত দুই শাসকগোষ্ঠী সক্রিয় আছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক সহযোগিতার ওপর ভর করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল এখনও মনসুর হাদির নেতৃত্বাধীন সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে, অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহীরা।

ইয়েমেনের এই সংঘাতকে মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্যের লড়াইয়ে সৌদি-ইরানের ‘ছায়াযুদ্ধ’ হিসেবে দেখা হয়। টানা গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত চলার ফলে প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ এবং এক সময়ের স্বচ্ছল এই দেশ।

টিএম

Link copied