নিপীড়নে অভিযুক্ত আমিরাতি জেনারেল হলেন ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৫ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২১ পিএম


নিপীড়নে অভিযুক্ত আমিরাতি জেনারেল হলেন ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট

নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন জেনারেল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের উদ্বেগ সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ইন্টারপোল বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আহমেদ নাসের আল-রাইসি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই পুলিশ সংস্থার প্রধানের মেয়াদ চার বছর।

আমিরাতের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান জেনারেল আল-রাইসি ইন্টারপোলে মূলত আলঙ্কারিক এবং স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকা পালন করবেন। ইন্টারপোলের মহাসচিব জেনারেল জার্গেন স্টক সংস্থাটির দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। ২০১৯ সালে পাঁচ বছর মেয়াদে সংস্থাটির মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি।

চলতি সপ্তাহে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক এই পুলিশ সংস্থার সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সাধারণ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এই সম্মেলনের আগে তুরস্ক এবং ফ্রান্সে আমিরাতের জেনারেল আল-রাইসির বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ করা হয়।

ফ্রান্সের লিঁও-ভিত্তিক এই সংস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশাল তহবিল সরবরাহ, রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের নিপীড়ন এবং ‘ওয়ান্টেড’ সন্দেহভাজনদের জন্য দেশটি জারিকৃত ‘রেড নোটিশ’ সিস্টেমের অপব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ ওঠার পর রাইসিকে ইন্টারপোলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছে।

গত ১১ নভেম্বর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের কাছে লেখা এক চিঠিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তিনজন সদস্য আমিরাতের ওই জেনারেলকে ইন্টারপোলের প্রধান করা হলে তা সংস্থাটির ওপর প্রভাব ফেলবে বলে সতর্ক করে দেন।

চিঠিতে লেখা হয়, ‘জেনারেল আল-রাইসিকে নির্বাচিত করা হলে তা ইন্টারপোলের মিশন ও সুনাম ক্ষুণ্ন এবং সংগঠনের উদ্দেশ্য কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।’

গত বছরের অক্টোবরে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক ১৯টি মানবাধিকার সংস্থা ইন্টারপোলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাইসির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে। 

সূত্র: এএফপি।

এসএস

Link copied