ওমিক্রন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে ফিরছে মাস্ক বাধ্যবাধকতা

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ নভেম্বর ২০২১, ১০:২৫ পিএম


ওমিক্রন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে ফিরছে মাস্ক বাধ্যবাধকতা

ছবি: রয়টার্স

করোনার নতুন রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক বাধ্যবাধকতা ফেরাচ্ছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, এখন থেকে যুক্তরাজ্যে থেকে সব ধরনের যানবাহন, দোকান, ব্যাংক ও সেলুনে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক।

তাছাড়া, সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর দুই দিনের মধ্যে পিসিআর টেস্ট করানো টেস্টের রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে ১১ জন।

ঘোষণায় বরিস জনসন বলেন, ‘যে নির্দেশিকাগুলো জারি করা হয়েছে, তা সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। আমরা সবাই যদি সতর্ক থাকি, সেক্ষেত্রে এই ধরনটিকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাওয়া যাবে।’

‘যদি আমরা যথাযথভাবে এসব নির্দেশনাগুলো মেনে চলি, তাহলে কেবল নতুন এই ধরনটির বিস্তার যে ধীর গতির হবে- তা ই নয়, বরং এতদিন ধরে এই রোগটির সংক্রমণ রোধে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দাদের যে অর্জন, তাকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নতুন নির্দেশনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলেছে- তা পর্যালোচনা করা হবে তিন সপ্তাহ পর। আরও বলেন, টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়ার ফলে গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সংক্রমণ পরিস্থিতি কম আশঙ্কাজনক।

ইতোমধ্যে দেশের ১৮ ও তারচেয়ে অধিক বয়সী সবার জন্য করোনা টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ বাধ্যতামূলক করেছে যুক্তরাজ্যের সরকার। মঙ্গলবারের ঘোষণায় বিষয়টি উল্লেখ করে বরিস জনসন বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা করোনাভাইরাস সম্পর্কে যতখানি জেনেছি, তাতে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, এই ভাইরাসটি বা তার কোনো রূপান্তরিত ধরনের বিস্তার ঠেকাতে সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হলো টিকা।’

গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় করোনার রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন। ইতোমধ্যে দেশটিতে এই ধরনে আক্রান্ত ২২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, ২৪ নভেম্বরের ৫ দিন আগে, ১৯ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসে শনাক্ত হয়েছিল ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগী। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ ৩০ নভেম্বর জানিয়েছে এ তথ্য।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, ব্রিটেন, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ইসরায়েল, ইতালিসহ ১৭ দেশে এই ধরনটিতে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ওমিক্রনকে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এসএমডব্লিউ

Link copied