ভারত এখন ‘চরম অসাম্যের দেশ’

Dhaka Post Desk

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৪৬ পিএম


ভারত এখন ‘চরম অসাম্যের দেশ’

দরিদ্র তো বটেই। ভারত এখন এক চরম অসাম্যের দেশও। দারিদ্র্য ও অসাম্য; দু’টিই এখন ভারতে প্রকট আকার ধারণ করেছে। ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাব বা বৈশ্বিক অসমতা বিষয়ক এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির এক শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে ২২ শতাংশ সম্পদ।

এমনকি ভারতের সমাজ ব্যবস্থার নিচের সারিতে বসবাস করা অর্ধেক মানুষের হাতে দেশের সম্পদের প্রায় কিছুই নেই বলেও রিপোর্টে জানানো হয়েছে। বুধবার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআই।

ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাবের ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের দরিদ্র মানুষের হাতে সম্পদের প্রায় কিছুই না থাকলেও দেশটির ধনীরা অত্যন্ত ধনী হয়ে উঠেছেন। ২০২১ সালে ভারতের মোট আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগই চলে গেছ দেশটির ওপরের সারির এক শতাংশ মানুষের হাতে। অথচ ৫০ শতাংশ মানুষকে দেশের মোট আয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ নিয়েই দিন কাটাতে হয়েছে।

প্যারিস স্কুল অব ইকোনোমিকসে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড ইনইক্যুয়ালিটি ল্যাবের এই রিপোর্ট তৈরিতে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি। রিপোর্টের শুরুতে নোবেলজয়ী দুই অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক ও এস্থার ডুফলো লিখেছেন, অসাম্য চরম পর্যায়ে থাকা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ভারত রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ক্রয়ক্ষমতার তুলনার নিরিখে ভারতের মানুষের মাথাপিছু গড় আয় বছরে ২ লাখ ৪ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু আয়ের দিক থেকে নিচের সারির অর্ধেক মানুষের গড় আয় মাত্র ৫৩ হাজার ৬১০ টাকা। ওপরের সারির ১০ শতাংশ মানুষের আয় তার প্রায় ২০ গুণ। ১১ লাখ ৬৬ হাজার ৫২০ টাকা।

সম্পদের ক্ষেত্রে অসাম্যের মাত্রা আরও বেড়েছে। ভারতের পরিবারভিত্তিক গড় সম্পদের পরিমাণ ৯ লাখ ৮৩ হাজার ১০ টাকা। কিন্তু সমাজের নিচু স্তরের ৫০ শতাংশ পরিবারের গড় সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৬৬ হাজার ২৮০ টাকা।

এছাড়া ওপরের সারির বা অতিধনী ১ শতাংশ বা ১০ শতাংশ পরিবারের তুলনায় মধ্যবিত্তও যথেষ্ট গরিব। অতিধনী ১০ শতাংশ পরিবারের গড় সম্পদের পরিমাণ ৬৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকার বেশি। একই ক্যাটাগরির ১ শতাংশ পরিবারের গড় সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকার বেশি। সেই তুলনায় মধ্যবিত্ত পরিবারের গড় সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৭ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

ভারতে লিঙ্গ বৈষম্যও চরম আকার ধারণ করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট আয়ে নারী শ্রমিক-কর্মীদের ভাগ মাত্র ১৮ শতাংশ। এই হার সারা বিশ্বের মধ্যেই ভারতে বেশ কম। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে নারীদের আয়ের ভাগ ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে চীন ছাড়া এশিয়ার দেশগুলোতে এই হার ২১ শতাংশ।

অবশ্য বিশ্বজুড়েই বেড়েছে সম্পদের অসমতা। রিপোর্টে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্বব্যাপী ‘বিলিয়নিয়ার’ বা কোটিপতিদের সম্পদের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

বিশ্বের মাত্র ২ হাজার ৭৫০ জন বিলিয়নিয়ারের হাতে এখন পৃথিবীর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পদ। ১৯৯৫ সালে তাদের হাতে বিশ্বের ১ শতাংশ সম্পদ ছিল। করোনা মহামারির সময়ই ধনীরা আরও ধনী হয়ে উঠেছেন। নিচের সারির অর্ধেক মানুষের কাছে এই ধনীদের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ সম্পদ রয়েছে।

টিএম

Link copied