আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানকে চ্যালেঞ্জ করছেন

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাত হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের শেষ পর্যায়ের যুক্তিতর্ক চলছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক শুরু হয়। অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। পরে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেনের আইনজীবী মিরাজুল আলম।
নিজের ক্লায়েন্টকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালকে এই আইনজীবী বলেন, আমার ক্লায়েন্টের দোষ প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। কারণ, তিনি কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। অধীনস্তদের কোনো আদেশ বা নির্দেশ দেননি। তার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন ডিবির ওসি রিয়াজ উদ্দিন। অতএব এ ঘটনায় কোনো জায়গায় আরাফাতের হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার ছিল না।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া আরাফাত হোসেনের জবানবন্দি পড়ে শোনান মিরাজুল। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমার ক্লায়েন্ট (আরাফাত) ছিলেন না। অথচ তাকে আসামি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল বলেন, গাড়ি (লাশ পোড়ানো) পোড়াতে কি অস্ত্র লাগে নাকি। অস্ত্র ছাড়াও তো গাড়ি পোড়ানো যায়। আপনার সাক্ষী সঠিক। উনাদের (প্রসিকিউশন) সাক্ষী সঠিক নয়।
জবাবে মিরাজুল বলেন, আমি (আরাফাত) তো ছিলাম না।
ট্রাইব্যুনাল আরও বলেন, ভিডিওতে কি দেখা যায়নি? জবাবে আইনজীবী বলেন, না। আমাকে দেখা যায়নি।
এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যারা ভ্যানে লাশ তুলেছে তারা কেউই দাঁড়িয়ে থাকেনি। লাশ ভ্যানে তুলে সবাই চলে গেছে।
এ সময় আরাফাতের আইনজীবী বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন বলেছে ওয়াইড স্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক। কিন্তু ওই দিন আরাফাত ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অর্থাৎ তাকে যখন, যেখানে অ্যাসাইন করা হয়েছে, তখন তিনি ওই কাজ করেছেন। পুলিশের ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল বলেই তিনি তার ঊর্ধ্বতনের আদেশ মেনেছেন। কেননা ওই দিন বাংলাদেশের সব থানায় আক্রমণ করা হয়েছিল। দ্যাট ইজ সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর এমন কথায় আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। মিরাজুলের উদ্দেশ্যে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানকে চ্যালেঞ্জ করছেন? একই সঙ্গে তার এ কথার ব্যাখ্যা চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তখন কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বরং নিজে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তার কাছে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান আপনি (আরাফাত) ৫ আগস্ট ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না? জবাবে না বলেন মিজানুল। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আরাফাতের সম্পৃক্ততা নেই। অতএব আমি তার খালাস আবেদন করছি।
এমআরআর/এমজে