বকেয়া ১৮২৩ কোটি টাকার দাবিতে ম্যারিকোর বিরুদ্ধে মামলা

শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের ১৭ বছরের বকেয়া বাবদ প্রায় ১৮২৩ কোটি টাকা পরিশোধের দাবিতে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা করেছেন কোম্পানিটির সাবেক ৯৪ জন শ্রমিক।
২০২৫ সালের ৮৬৫ নম্বর মজুরি মামলায় তারা শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল (ডব্লিউডব্লিউএফ) থেকে তাদের প্রাপ্য অর্থ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মামলার ১নং বাদী ও এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ কার্যকর হওয়ার পর ওই আইনের ২৩৪ ধারা অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডে শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন করার আইনগত বাধ্যবাধকতা ছিল। পাশাপাশি ২৩২ ধারা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকা বা স্থায়ী সম্পদের মূল্য ন্যূনতম দুই কোটি টাকা হলে এসব তহবিল গঠন বাধ্যতামূলক।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এসব তহবিল গঠন করেনি। ২০১৪ সালে তহবিল গঠন করা হলেও পূর্ববর্তী সময়ের প্রাপ্য অর্থ শ্রমিকদের পরিশোধ করা হয়নি। এ বিষয়ে ২০১৪ সালে আইনি নোটিশ দেওয়া হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মজুরি হিসেবে প্রদেয় অর্থ ছাড়া তহবিলের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানো হয়। এরপর ওই বছর ম্যারিকোর সাবেক ১৯ জন শ্রমিক শ্রম আদালতে ৬৯১ নম্বর মজুরি মামলা দায়ের করেন।
মাহফুজুর রহমান বলেন, শ্রম আইন ২০০৬-এর ২৩৪ ও ২৪০ ধারা অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্য অর্থ এবং কোম্পানির বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লভ্যাংশসহ মোট পাওনা আদায়ের দাবিতে বর্তমানে দুইটি মামলায় মোট ১১৩ জন শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার পর শ্রমিকরা দেশের দুটি স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্মের মাধ্যমে কোম্পানির প্রকাশিত অডিট রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে প্রায় ১৮২৩ কোটি টাকার সনদ গ্রহণ করেন, যা আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকাশিত অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ম্যারিকো লিমিটেড (ইন্ডিয়া) এই সময়ে বিপুল পরিমাণ মুনাফা ভারতে রেমিট করেছে। শুধু ২০২৪–২৫ অর্থবছরেই ৩৮৪০ শতাংশ ডিভিডেন্ট ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় ১০৭৭ কোটি টাকা ভারতে পাঠানো হয়েছে, যা ১৭ বছরের মোট রেমিটযোগ্য অর্থের প্রায় ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টারেই ৬০০ শতাংশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে, যা ভারতে রেমিটযোগ্য।
এই অবস্থায় শ্রমিকদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বা প্রাপ্য পাওনা মজুরি পরিশোধের আগ পর্যন্ত ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে ভারতে মুনাফা রেমিট বন্ধ রাখার জোর দাবি জানান তিনি।
এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পর ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হলে রাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। আমরা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি এবং বিদ্যমান আইনের আলোকে আদালত থেকে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি।
সংবাদ সম্মেলনে এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএন/বিআরইউ