লোটাস কামালের ব্যবসায়িক পার্টনার নোমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের (লোটাস কামাল) ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ আবু নোমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৪ মার্চ) দুর্নীতির গুরুতর কিছু অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই আদেশ দেন।
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণে সিন্ডিকেট ও অর্থ পাচারের মতো বিষয়ে নোমানের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালত সূত্র জানায়, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
এর আগে এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির পরিচালক মো. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আবু নোমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সাবেক মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল, তার স্ত্রী কাশমিরী কামাল এবং তাদের দুই মেয়ে কাশফি কামাল ও নাফিসা কামালের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ, দুবাইয়ে সম্পত্তি গড়া, শেয়ার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোস্তফা কামাল ও তার মেয়ে নাফিসা কামালের ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ আবু নোমান কানাডা ও দুবাইয়ের স্থায়ী নাগরিক। তার মালিকানাধীন সব মেডিকেল চেকআপ সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং তার সব সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ সংক্রান্ত অভিযোগটিও দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থে এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে এই অনুসন্ধানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ আবু নোমান নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন এবং বছরের একটি বড় অংশ বিদেশে অবস্থান করেন। তার একাধিক দেশের নাগরিকত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান চলাকালে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকায় তার বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।
এনআর/বিআরইউ