বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনে হঠাৎ ইন্টারনেট বন্ধের কারণ জানালেন সাক্ষী

অ+
অ-
ট্রাইব্যুনালে জুলাই আন্দোলনে হঠাৎ ইন্টারনেট বন্ধের কারণ জানালেন সাক্ষী

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে হঠাৎ ইন্টারনেট সেবা বন্ধের কারণ জানিয়েছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা। সরকারের নির্দেশেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এ কথা জানান। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন ইমদাদুল। 

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

বিজ্ঞাপন

অপটিমেক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন ইমদাদুল। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে আগুন লাগে। ওই দিন বিকেল ৪টা থেকে কিছু কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। রাত ৯টা থেকে সারা দেশে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট।

জবানবন্দিতে ইমদাদুল বলেন, ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরাই শেষ স্তর। আমাদের ওপর আরও দুটি স্তর যথাক্রমে ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ও ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টরিয়াল কোম্পানি (আইটিসি) রয়েছে। আইআইজি ব্যান্ডউইথ ক্রয় করে সরকারি প্রতিষ্ঠান সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি আইটিসি থেকে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হওয়ায় আইআইজির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আইটিসি থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে জানায় তারা। এরপর আমরা বুঝতে পারি যে, সরকারের সিদ্ধান্তে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। 

তিনি বলেন, ২৩ জুলাই ঘটনাস্থল মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন পরিদর্শনে আসেন তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সভাপতি হিসেবে আমি ও আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলাম। আমরা প্রতিমন্ত্রীকে ইন্টারনেট সেবা চালু করার অনুরোধ জানাই। আজকের মধ্যেই চালু হবে বলে জানান তিনি। এরপর সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। 

বিজ্ঞাপন

ডাটা সেন্টারে আগুন লাগার কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন পলক। তবে তার এই বক্তব্যটি রাজনৈতিক বলে মনে হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে জানান ইমদাদুল।

সাবেক এই সভাপতি বলেন, আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। তবে আগুনে ইন্টারনেট ট্রান্সমিশনে কিছু ফাইবার অপটিক ক্যাবল পুড়ে গিয়েছিল। ফলে ডাটা সেন্টারটি বন্ধ হলেও সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। কারণ সারাদেশে আরও ১৫-১৬টি ডাটা সেন্টার রয়েছে।

জবানবন্দি শেষে ইমদাদুলকে জেরা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। এ মামলায় পলাতক রয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তার হয়ে আইনি লড়াই করছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম। 

এমআরআর/জেডএস