জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জামিন পেয়েছেন। জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালেই নিয়মানুযায়ী কারামুক্তি পাবেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১২ এপ্রিল) আসামি পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডিস্থ তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। ওইদিনই তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা চেষ্টা ও চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিজবাহ জানিয়েছেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় শিরীন শারমিনের কারামুক্তিতে বাধা নেই।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ নাই। আমরা জামিননামা দাখিল করবো। কারাগারে পৌঁছামাত্র তিনি আজ অথবা কালই কারামুক্ত হবেন বলে আশা করছি।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি (শিরীন শারমিন চৌধুরী) জামিন পেয়েছেন। নিয়মানুযায়ী তিনি কারামুক্ত হবেন। তবে তার নামে আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সেসব মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তারের আবেদন করেনি পুলিশের কোনো ইউনিট। হলে জানতাম। অথবা আর্জি থাকলে জানবো।
বিজ্ঞাপন
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরীন আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, তিনি (সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী) আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন শুনেছি। কারামুক্তি পেতে হলে কারাগারে জামিননামার কাগজ আসতে হবে। সেটি এখনো পৌঁছায়নি। পৌঁছামাত্র কারামুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
অন্যকোনো মামলায় যদি শ্যোন অ্যারেস্ট বা পরোয়ানা থাকে সেক্ষেত্রে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরোয়ানা অনুযায়ী তিনি গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে ছিলেন। অন্য কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো বিষয়টি পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীদের কার্যক্রমের অংশ। কারামুক্তির বিষয়ে জামিননামা লাগবে। আজ অথবা কাল, জামিননামা পেলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।
জামিন শুনানিতে অংশ নিয়ে শিরীন শারমিনের পক্ষের আইনজীবী ইবনুল কাওসার আদালতে বলেন, তিনি অসুস্থ, মৃত্যু পথযাত্রী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো চিকিৎসা নিতে পারেননি তিনি। আত্মগোপনে ছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন। ৬ মাস পর পর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যেতে হয়। তবে ২০২৪ সালের ১১ জুনের পর চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার আর সুযোগ পাননি তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়ন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি শিরীন শারমিনকে। গত ৭ এপ্রিল ভোরে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
ওই দিনই দুদিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলেন শিরীন শারমিনের আইনজীবী। তবে আদালত উভয়পক্ষের আবেদন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল। সেই মামলার ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন।
জেইউ/এসএম
