জ্ঞানার্জন করতে এসে যেন আর জীবন বিসর্জন দিতে না হয়

Tofayel Hossain

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৪৫ পিএম


জ্ঞানার্জন করতে এসে যেন আর জীবন বিসর্জন দিতে না হয়

একবুক স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়তে পাঠিয়েছিলেন। ছেলে বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ফিরবে। দশের সেবা করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এই স্বপ্নে পথ চেয়ে ছিলেন মা-বাবা। একদিন ছেলে ফিরল বটে, ফিরল সাদা কাফনে জড়িয়ে। দেশসেরা মেধাবীদের বিদ্যাপীঠে এক রাতে হঠাৎ নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরেই ফেলা হয়েছে তাকে। 

বুয়েটে জ্ঞানার্জন করতে এসে জীবন বিসর্জন দেওয়া কুষ্টিয়ার ওই ছাত্রের নাম আবরার ফাহাদ। তার বাবা-মায়ের সন্তান হারানোর ব্যথা মুছে যাবে এই আশা করা যায় না। কিন্তু অপরাধীদের বিচার হবে সেই আশাতো করা যায়? 

রোববার (২৮ নভেম্বর) আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর জানাচ্ছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন অন্তত দেড়শ ছাত্র। শেষ এক যুগে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় লাশ হয়েছেন অন্তত দুই ডজন শিক্ষার্থী। অতীত পরিসংখ্যান বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশা করা অতি আশাবাদীদেরই বেশি মানায়। 

তবে আবরারের মা-বাবার জন্য সান্ত্বনার খবর হচ্ছে, রোববার (২৮ নভেম্বর) এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হচ্ছে। রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত। 

ছেলে হারানোর দুই বছর পর আবরারের মা এখন চুপচাপ বসে থাকেন। অপলক চেয়ে থাকেন ছেলের শূন্য বিছানা-ঘরের দিকে। আজ শনিবার (২৭ নভেম্বর) আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, এভাবে সন্তান হারানোর কষ্ট কে ভুলতে পারে? দুই বছর দুই মাস হয়ে গেল, আবরারের মায়ের চোখের পাতা এখনো শুকায়নি। কেঁদে কেঁদে চোখ ভাসায়, বসে থাকে চুপচাপ। একটাই চাওয়া তার, এই খুনের যেন সঠিক বিচার হয়। 

তিনি বলেন, আমার ছেলের একজন খুনিও যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বের না হয়ে যায়। আমরা চাই এমন একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় হোক, যেন আর কোনোদিন বাংলাদেশের কোনো কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জন করতে এসে জীবন বিসর্জন দিতে না হয়।  

মামলা পরিচালনার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি সন্তুষ্ট বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মামলা পরিচালনা করেছেন। আসামিপক্ষের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরেছেন, প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমি আশা করি, আবরারের মাকে বলতে পারব- তোমার ছেলের খুনের সুষ্ঠু বিচার হয়েছে। 

রায়ে কী আশা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আবরার হত্যা মামলাটি একটি আলোচিত মামলা। আগামীকাল রোববার (২৮ নভেম্বর) রায় ঘোষণা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলার সব সাক্ষীর তথ্য-উপাত্ত, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিসহ সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদালতে উপস্থাপন করেছি। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মামলাটি প্রমাণ করতে পেরেছি। তাই আশা করছি, সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। 

তিন আসামি মামলা থেকে খালাস পাবেন, প্রত্যাশা আসামি পক্ষের আইনজীবী ফরুক আহমেদের।  

তবে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফরুক আহমেদের প্রত্যাশা তার তিন আসামি মামলা থেকে খালাস পাবেন। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি এই মামলার আসামি শামীম বিল্লাহ, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান ও এস এম মাহমুদ সেতুর পক্ষে ছিলাম। তাদের পক্ষে আমি আদালতে সব তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছি। আশা করছি, এই মামলা থেকে তারা খালাস পাবেন। কারণ, এই তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। মিজান ও সেতু দুইজনের নাম এজাহারে উল্লেখ নেই। একই সঙ্গে তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে এজাহারে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। 

মামলা ও আসামি 

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর ৩টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

ওই বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এজাহারভুক্ত ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জন ও এজাহারের বাইরে থাকা ছয় জনের মধ্যে পাঁচ জনসহ মোট ২২ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদের সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি অভিযোগপত্রটি আমলে নেন আদালত, ২ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

শিবির সন্দেহে বানোয়াট অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরারকে। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। 

এজাহারে থাকা আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান রাসেল, অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিওন, মুনতাসির আলম জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, মুজাহিদুর রহমান, মুহতাসিম ফুয়াদ, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুল ইসলাম, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদুজ্জামান জিসান ও এহতেশামুল রাব্বি তানিম।

এজাহারবহির্ভূত ছয় আসামি হলেন- ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, এস এম মাহমুদ সেতু ও মোস্তবা রাফিদ। পলাতক তিনজন হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এদের মধ্যে প্রথম দুজন এজাহারভুক্ত।

সাক্ষীরা কী বলেছেন

গত ৪ মার্চ আবরার হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এ মামলায় মোট ৪৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ২১টি আলামত ও আটটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তারক্ষী মোস্তফা আদালতকে সাক্ষ্যদানকালে বলেছিলেন, গত বছরের ৬ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে তিনি নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন। রাত দুইটার দিকে বুয়েটছাত্র মেহেদী হাসান ওরফে রবিন (আসামি) তার কাছে আসেন। তিনি হলের প্রভোস্ট, হলের সুপারভাইজারকে ফোন দিতে বলেন। মেহেদীর কাছে তিনি জানতে চান, কেন ফোন দিতে হবে? তখন মেহেদী তাকে বলেছিলেন, হলে তারা একজন জামায়াত-শিবির ধরেছেন। তিনি আছেন হলের ২০০৫ নম্বর কক্ষে।

এরপর প্রথমে তিনি হলের সুপারভাইজারকে ফোন দেন। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এরপর তিনি হলের সহকারী প্রভোস্টকে ফোন করে বলেন, ‘স্যার একজন ছাত্র বলছে, হলে তারা জামায়াত-শিবিরের একজনকে ধরেছে। এখন সে হলেই আছে।’ এই কথা বলার পরপরই তিনি দেখতে পান হলের দ্বিতীয় তলায় কয়েকজন ছাত্র আরেক ছাত্রকে শুইয়ে রাখেন।

এই দৃশ্য দেখে নিরাপত্তারক্ষী মোস্তফা সহকারী প্রভোস্টকে পুনরায় ফোন দেন এবং বলেন, ‘স্যার, অবস্থা বেশি ভালো না তাড়াতাড়ি হলে আসেন।’ এরপর হলের প্রভোস্টসহ অন্য স্যাররা আসেন। পুলিশ সদস্যরাও আসেন। স্যারদের উপস্থিতিতে হলে নিহত ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে পুলিশ।

নিরাপত্তারক্ষী মোস্তফা আদালতকে আরও বলেন, আবরার ফাহাদের কপালে, হাতে, কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত জখম দেখতে পান। কোমর থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত জখম দেখেন। হলের কক্ষ থেকে পাঁচটি ক্রিকেট স্টাম্প, দড়ি, চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

আরেক সাক্ষী কামরুল হাসান আদালতকে বলেন, রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালক মিজানুর রহমান তাকে ফোন দেন। পরে বাসার সামনে একজন নিরাপত্তারক্ষীকে তিনি দেখেন। ওই নিরাপত্তারক্ষী তাকে জানান, বুয়েটের শেরেবাংলা হলে সমস্যা হয়েছে। উপাচার্য স্যার তাকে শেরেবাংলা হলে যেতে বলেছেন। পরে তিনি শেরেবাংলা হলে যান। দেখেন, একজন ছাত্রকে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে হলের প্রভোস্টসহ অন্যরা তখন উপস্থিত ছিলেন। 

গত ১০ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন অন্তত দুই ডজন শিক্ষার্থী।

বুয়েটের চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, ওই ছাত্র আগেই মারা গেছেন। তখন তিনি খবরটি উপাচার্যকে জানান। উপাচার্য তাকে ঘটনাটি পুলিশকে জানাতে বলেন। পরে পুলিশ আসার পর তাদের উপস্থিতিতেই নিহত ছাত্র আবরারের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

গত ১৪ নভেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও যত হত্যা 

গণমাধ্যমে উঠে আসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো জড়ো করে দেখা যায়, গত ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বুয়েট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চবি) দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে লাশ হয়েছেন অন্তত দুই ডজন শিক্ষার্থী।

এই ২৪ জনের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন,  ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ জন, দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও ৩ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কারণে মূলত এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

মহিউদ্দিন কায়সার হত্যা : ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির রাতে চট্টগ্রামের ষোল শহর রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন কায়সারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার জন্য ছাত্রলীগ ও শিবির একে অপরকে দায়ী করে। পরে মহিউদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে চবি ছাত্রলীগ ও শিবির উভয় দলই।

মামুন হত্যা : একই বছরের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শাহ আমানত হল ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন।

হারুন অর রশীদ হত্যা : ২০১০ সালের ২৮ মার্চ রাতে শাটল ট্রেনে করে চট্টগ্রাম শহর হতে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চবি মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র হারুন অর রশীদকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

আসাদুজ্জামান হত্যা : একই বছরের ১৫ এপ্রিল চবি ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে অ্যাকাউন্টিং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আসাদুজ্জামান নিহত হন।

তাপস হত্যা : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ছাত্রলীগ কর্মী তাপস।

দিয়াজ হত্যা : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চবির ২নং গেট সংলগ্ন নিজ বাসায় খুন হন ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ। এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক ১০ নেতাকর্মী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শরিফুজ্জামান হত্যা : ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ ছাত্রলীগের হামলায় নিহত হন রাবির শিবিরের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান নোমানী।

ফারুক হত্যা : পরের বছর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল দখলকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ কর্মী ও গণিত বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন।

নাসিম হত্যা : একই বছর ১৫ আগস্ট শোক দিবসে টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাহ মখদুম হলের দোতলার ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মী নাসিরুল্লাহ নাসিমকে ফেলে হত্যা করে ছাত্রলীগ সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা।

সোহেল হত্যা : ২০১২ সালের ১৫ জুলাই রাতে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল হাসান ওরফে সোহেল। পদ্মা সেতুর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে কোন্দল লাগে বলে রিপোর্টে প্রকাশ। 

লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির কারণেই এসব হত্যা, দাবি বিশ্লেষকদের। 

রুস্তম হত্যা : ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের বলি হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী আকন্দ। ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল নিজ কক্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

ময়মনসিংহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শিশু রাব্বি হত্যা : কোনো শিক্ষার্থী নয় বাকৃবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে বলি হন  ১০ বছরের শিশু রাব্বি। ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

সায়াদ হত্যা : ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ নিজ দলের নেতাকর্মী হাতেই প্রাণ হারান আশরাফুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সায়াদ ইবনে মমাজ। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে সে সময় জাতীয় সব গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বজিৎ হত্যা : এ হত্যাকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সারা দেশ প্রকম্পিত হয়। শিবির সন্দেহে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচির দিনে এ নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে।

জুবায়ের হত্যা : এ হত্যাকাণ্ডের জন্যেও ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল দায়ী। ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মধ্যে অভ্যন্তরিণ কলহের জেরে এক হামলায় গুরুতর আহত হন জাবির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ।  পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্পাসে তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আবু বকর হত্যা : ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নির্মমভাবে খুন হন মেধাবী ছাত্র আবু বকর। এ হত্যা মামলায় সব আসামি ছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিপুল হত্যা : ২০১২ সালের ৯ জুন সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ফাহিম মাহফুজ বিপুল।

জাকারিয়া ও মিল্টন হত্যা : স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা পড়েন হাবিপ্রবির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন। ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।

সজীব, রিয়াদ ও  সুমন দাস হত্যা : ২০১২ সালের ১২ মার্চ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল আজিজ খান সজীব খুন হন। ২০১৪ সালের ১৪ জুলাই ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রকাশ্যে খুন হন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ। একই বছর ২০ নভেম্বর শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারান ছাত্রলীগ কর্মী ও সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমন দাস।

টিএইচ/এইচকে

টাইমলাইন

Link copied