সম্পর্কে দায়বদ্ধতা এড়াতে চায় সঙ্গী? চিনুন ৫ লক্ষণ দেখে
দু’জন মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা যতটা না কঠিন তার চেয়ে তা টিকিয়ে রাখা আরও কঠিন। সম্পর্ক টিকে থাকে মায়া, ভালোবাসা, দায়িত্ব এবং বিশ্বাসে। অনেকে আবার এই দায়িত্ব নিতে বয় পায়, বারবার পিছলে যায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কমিটমেন্ট ফোবিয়া’— অর্থাৎ, সম্পর্কের দায়িত্ব নেওয়ার ভয়। তারা যে সর্বদাই সম্পর্ককে এড়িয়ে চলেন, তা নয়। কিন্তু সম্পর্ক গভীর হওয়ার কথা উঠলেই অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে সম্পর্ক থাকলেও তা কখনও স্থির বা স্পষ্ট রূপ পায় না।
বিজ্ঞাপন
আপনি যদি এর ঠিক উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে থাকেন, তা হলে বার বার মনে হবে, সঙ্গীর থেকে কয়েক পা এগিয়ে রয়েছেন আপনি। সঙ্গী খানিকটা পিছিয়ে। হয়তো সত্যের থেকে খানিকটা দূরে রয়ে যাচ্ছেন সব সময়ে। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি ‘কমিটমেন্ট ফোবিয়া’কে চিনতে পারবেন, ততই আপনার জন্য তা স্বাস্থ্যকর। যদি আপনার সঙ্গী সম্পর্কের দায়িত্ব নিতে ভয় পেয়ে থাকেন, অথচ বলে উঠতে না পারেন, তা হলে তার মধ্যে এই লক্ষণগুলো লক্ষ্য করা যেতে পারে—
১. আগের সব সম্পর্কই স্বল্পদৈর্ঘ্যের
যাদের কমিটমেন্টের ভয় থাকে, তাদের অতীতের সম্পর্কগুলো অনেক সময়ই খুব অল্প সময়ের হয়। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের বদলে তারা একের পর এক ছোট সময়ব্যাপী সম্পর্কেই জড়িয়ে পড়েন। তারা যে কারণগুলো জানাবেন, সেগুলোর সবকটিই যুক্তিযুক্ত। তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কখনও দু’জনের চাহিদা আলাদা, কখনও ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয়ে যাওয়া, অথবা বিশ্বাসের ঘাটতি— নানা কারণের পরেও প্রত্যেকটি সম্পর্কই খুব তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে গিয়ে শেষও হয়ে গিয়েছে। কম কালদৈর্ঘ্যের সম্পর্ক মানেই ব্যক্তি খারাপ, এমনটা ভেবে নেওয়াও উচিত নয়। কিন্তু সঙ্গীর মনের ভেতরটা বোঝার জন্য এই ইতিহাস কাজে আসতে পারে। আবার কখনও কখনও দেখা যায়, আগের একাধিক সম্পর্ক বেশ ধূসর। মানে, তিনি আদৌ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
২. ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করতে চান না
আগামী সপ্তাহের কোনও অনুষ্ঠান বা কয়েক দিন পরের ডেট, এমন সাধারণ পরিকল্পনাও অনেক সময় তাদের অস্বস্তিতে ফেলে। তাই তারা সাধারণত শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। কোনও কিছুতে স্পষ্ট করে ‘হ্যাঁ’ বলেন না তারা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ‘হয়তো’, ‘দেখা যাবে’, ‘সম্ভবত’— এই ধরনের অস্পষ্ট উত্তরই বেশি শোনা যায়। তা ছাড়া সম্পর্কটি কোন দিকে এগোচ্ছে, ভবিষ্যতে কী ভাবে সম্পর্কটিকে দেখতে চান, এই ধরনের সংলাপে নিজেকে জড়াতেই চান না তারা। এ সবে দমবন্ধ লাগে তাদের।
৩. শারীরিক ঘনিষ্ঠতা থাকলেও মানসিক দূরত্ব থাকে
বিজ্ঞাপন
তারা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাইতে পারেন, কিন্তু আবেগের দিক থেকে খুব বেশি কাছে আসতে চান না। ফলে সম্পর্ক অনেক সময়েই শুধুই বাহ্যিক ঘনিষ্ঠতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। মনের দিকে বেশি কাছে যেতে ভয় পান তারা। পালানোর পথ সব সময়েই খোলা থাকে তাই তাদের।
৪. ‘ভালোবাসা’ শব্দটি এড়িয়ে চলেন
অনুভূতি প্রকাশ করতে তারা অস্বস্তি বোধ করেন। ফলে অনেক সময়েই ‘ভালোবাসি’ বলা বা আবেগ প্রকাশ করা থেকে দূরে থাকেন। এক বার বলে ফেললে সম্পর্কের বাঁধনে জড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে। তাই সে দিকে পা মাড়াতে চান না তারা।
৫. আচরণ অনেক সময়ই অপ্রত্যাশিত
এক দিন খুব ঘনিষ্ঠ, আবার পরের দিন হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া— এই ধরনের আচরণ ‘কমিটমেন্ট ফোবিয়া’র সাধারণ লক্ষণ। ফলে সঙ্গীর কাছে আচরণ অনেক সময়ে অপ্রত্যাশিত মনে হয়। আসলে ঘনিষ্ঠ হতে ইচ্ছে করলেও আদপে তারা ভয় পান। বেশি কাছে চলে গেলে দূরে সরতে বেশি কসরত করতে হতে পারে, সেই ভাবনা থেকে এক প্রকার আতঙ্ক গ্রাস করে থাকে এদের।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ‘কমিটমেন্ট ফোবিয়া’র পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে— শৈশবের অভিজ্ঞতা, আগের সম্পর্কের আঘাত বা স্বাধীনতা হারানোর ভয় তার মধ্যে অন্যতম। তাই এই সমস্যা নিয়ে খোলামেলা কথা বলা এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নেওয়া উচিত।
এসএম
