বিজ্ঞাপন

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে কী খাবেন, কী খাবেন না

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে কী খাবেন, কী খাবেন না

অ+
অ-

কিডনিতে পাথর একটি বেশ পরিচিত সমস্যা যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। কিডনিতে পাথর হওয়ার বিভিন্ন কারণ থাকলেও, এর প্রধান ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পানিশূন্যতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। সচেতনতার অভাবে মানুষ স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে ব্যর্থ হয়, যা ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ এবং এর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আপনার কিডনিতে পাথর থাকে বা পাথর হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি থাকে, তবে কী খাবেন এবং কী এড়িয়ে চলবেন তা জানা অপরিহার্য।

কিডনিতে পাথর হলে কী খাবেন

কিডনিতে পাথরের খাদ্যাভ্যাস ব্যবস্থাপনার মূল লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত পুষ্টির বজায় রেখে পাথর সৃষ্টিকারী যৌগগুলোর ইউরিনারি সুপার-স্যাচুরেশন কমানো। জেনে নিন কিডনিতে পাথর হলে বা হওয়ার ভয় থাকলে কী খাবেন-

বিজ্ঞাপন

দুধ এবং দইয়ের মতো খাদ্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম (প্রতিদিন ১০০০-১২০০ মিলিগ্রাম) গ্রহণ করা অপরিহার্য, কারণ এটি অন্ত্রে অক্সালেটকে আবদ্ধ করে। সেইসঙ্গে এর শোষণ ও মূত্রের মাধ্যমে নির্গমন কমিয়ে দেয়।

ফল ও শাক-সবজি সমৃদ্ধ খাদ্য পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং সাইট্রেট সরবরাহ করে। যা মূত্রের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম নির্গমন কমিয়ে এবং মূত্রে সাইট্রেটের মাত্রা বাড়িয়ে পাথর গঠন প্রতিরোধ করে।

লেবু জাতীয় ফল, বিশেষ করে লেবু সাইট্রেট উপাদানের জন্য উপকারী। যা ক্যালসিয়ামের সাথে জটিল যৌগ গঠন করে এবং ক্রিস্টাল জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।

বিজ্ঞাপন

শস্যদানা এবং উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবারও মূত্রের গঠন উন্নত করতে এবং কিডনির সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

কিডনির পাথর থাকলে কী এড়িয়ে চলবেন

কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদান মূত্রের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তন করে নেফ্রোলিথিয়াসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

জার্নাল অফ ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ার-এ প্রকাশিত গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ (>২,৩০০ মিলিগ্রাম/দিন) মূত্রের মাধ্যমে ক্যালসিয়ামের নির্গমন বৃদ্ধি করে (হাইপারক্যালসিউরিয়া), যার ফলে ক্যালসিয়াম-ভিত্তিক পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।

অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ মূত্রে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে।

প্রাণিজ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার (বিশেষ করে লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস) অ্যাসিড লোড বাড়ায়, মূত্রে সাইট্রেটের পরিমাণ কমায় এবং ইউরিক অ্যাসিডের নির্গমন বাড়িয়ে দেয়, যা সবই পাথর গঠনে সহায়ক।

‘নেচার’-এ প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, কোলা পানীয়তে ফসফরিক অ্যাসিড থাকার কারণে এটি ঘন ঘন পান করলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।

এইচএন