দুগ্ধজাত খাবার বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভ্যাসের একটি নিয়মিত অংশ। আমাদের চায়ের দুধ থেকে শুরু করে পাতে থাকা দই এবং পনির পর্যন্ত দুগ্ধজাত কিছু না কিছু থাকেই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায়। কিন্তু ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স, অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে যেহেতু আরও বেশি মানুষ কথা বলছেন, তাই অনেকের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার বাদ দেওয়া একটি সাধারণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। আপনি কি জানেন অল্প সময়ের জন্য হলেও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বন্ধ করলে আসলে কী ঘটে? এটি ছাড়া কি আমাদের শরীর ভালো থাকে, নাকি এটি পুষ্টির অভাব বোধ করে? বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই পরিবর্তন ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। দুই সপ্তাহ দুগ্ধজাত খাবার বর্জন করলে আপনার শরীরে কী হতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক-
বিজ্ঞাপন
১. পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি কম মনে হতে পারে
যারা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স, তাদের ক্ষেত্রে দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চললে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং পেটের অস্বস্তি কমে যায়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (NIDDK)-এর মতে, শরীর ল্যাকটোজকে সঠিকভাবে ভাঙতে না পারলে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের কারণে হজম সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিলে আমাদের অন্ত্র এই সহজে হজম না হওয়া শর্করা থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়।
২. ক্যালসিয়াম গ্রহণ কমে যেতে পারে
বিজ্ঞাপন
দুগ্ধজাত খাবার সহজে শোষিত ক্যালসিয়ামের অন্যতম সেরা উৎস। এনআইএইচ অফিস অফ ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টস উল্লেখ করেছে যে হাড়ের শক্তি, পেশী সঞ্চালন এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য। উপযুক্ত বিকল্প ছাড়া দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিলে ক্যালসিয়াম গ্রহণ দ্রুত কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিচ্ছেন তাদের তিল, বাদাম, টোফু এবং শাকসবজির মতো খাবার খাওয়া উচিত।
৩. অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ায় পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন
পুষ্টি বিষয়ক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা দেখা গিয়েছে যে, দইয়ের মতো গাঁজানো দুগ্ধজাত পণ্য অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে সহায়তা করে। দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিলে এই ব্যাকটেরিয়া সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি কোনো প্রোবায়োটিক খাবার যোগ না করা হয়। এক্ষেত্রে কেউ কেউ ভালো বোধ করেন, আবার অন্যরা হজমে সূক্ষ্ম পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। দুগ্ধজাত দইয়ের পরিবর্তে গাঁজানো উদ্ভিদজাত খাবার বা উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোবায়োটিক গ্রহণ অন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞাপন
৪. ভিটামিন ডি-এর মাত্রার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে
অনেক দুগ্ধজাত পণ্যে ভিটামিন ডি থাকে, যা শরীরকে কার্যকরভাবে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে। এনআইএইচ (NIH)-এর পর্যালোচনা অনুসারে, ধীরে ধীরে ভিটামিন ডি-এর কম গ্রহণ হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও অল্প সময়ের জন্য বাদ দিলে তা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি তৈরি করার জন্য যথেষ্ট নয়, তবে ভিটামিন ডি-এর অন্যান্য উৎস ছাড়া ধারাবাহিকভাবে দুগ্ধজাত পণ্য এড়িয়ে চললে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দুগ্ধজাত পণ্য বর্জনের এই পর্যায়ে সূর্যালোক, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ উদ্ভিজ্জ দুধ এবং সাপ্লিমেন্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৫. ত্বকের উন্নতি হতে পারে
কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ এবং ব্রণের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে, যদিও এর ফলাফল মিশ্র। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহ দুগ্ধজাত পণ্য বর্জন করলে ব্রণের প্রকোপ কমতে পারে বা প্রদাহ হ্রাস পেতে পারে। আবার অন্যরা কোনো পার্থক্যই দেখতে পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বকের পরিবর্তন শুধুমাত্র একটি খাদ্য গোষ্ঠীর উপর নয়, বরং হরমোন, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পানিপানের উপরও নির্ভর করে।
এইচএন
