এ যেন এক অন্যরকম মায়া

শুরুটা সব সময়েই কঠিন মনে হয়। তাই তো শুরুটা যার হাত ধরে হয়, একটা সময় সে যদি না-ও থাকে, কোথাও না কোথাও যেন কী করে আবার থেকেও যায়! খুব কি জটিল করে কথা বলছি? না। আসলে ঢাকা পোস্ট ছেড়ে যাইনি এখনও। শুরুটা হয়েছিল আমাদেরই হাত ধরে। আমি এবং আমরা। নতুন কিছু করার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে চলতে শুরু করেছিলাম। চলতে চলতে কেউ কেউ পথ বদলেছেন। কেউ চলে গিয়েও আবার ফিরে এসেছেন। কারও কারও আবার আর কোথাও যাওয়া হয়নি। কী এক মায়ায় তারা আটকা পড়ে আছেন পাঁচটি বছর ধরে। সেই থেকে যাওয়াদের মধ্যে আমিও একজন।
আমার কবি কিংবা কথা সাহিত্যিক পরিচয়ের আড়ালে ঘাপটি মেরে আছে আরেকটি পরিচয়, আমি একজন গণমাধ্যমকর্মীও। এখন আর খবরের সন্ধানে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াতে হয় না। শহরের আনাচে-কানাচে পড়ে না আমার পায়ের ছাপ। স্থির হয়ে বসে কাজ করছি, সে-ও তো এক যুগ হয়ে এলো! শুরুটা ছিল জীবনযাপন নিয়ে। দেশের প্রথম সারির এক পত্রিকায় লেখার সুযোগ হয়। লিখে টাকা পাওয়ার অভ্যাস তখনও ভালোভাবে রপ্ত হয়নি। তাই মাস গেলে যখন কিছু না কিছু পয়সা আসতে লাগলো, আমার মলিন মুখখানা একটু হলেও উজ্জ্বল হতে শুরু করেছিল।
না পাওয়ার গল্প দীর্ঘ হয়নি, স্রষ্টার অপার করুণা। তিনি আমাকে খুব অল্প বয়সেই বিশাল এক সুযোগের দুয়ারে এনে দাঁড় করালেন। পত্রিকায় আমার লেখা পড়ে সেখান থেকেই আমার সম্পর্কে জেনে স্বয়ং সম্পাদক ডেকে কাজ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ছিল শুরু। একটি অনলাইন পোর্টালের লাইফস্টাইল বিভাগের যাত্রা শুরু হয়েছিল, আমার ভীতু ও আনাড়ি হাত ধরে। ধীরে ধীরে সেই ‘অখ্যাত’ পোর্টাল একদিন দেশের অনলাইন নিউজ পোর্টালের জগতে এক নম্বরে আসন গেড়ে নিলো। প্রায় অর্ধযুগ সেখানে কাজ শেষে একদিন ফের নতুন শুরু।
শুরু হলো ঢাকা পোস্টের যাত্রা। যাত্রার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা পাঠকের মধ্যে ফের সাড়া ফেলতে সক্ষম হলাম। একটু একটু করে পাঠকের আস্থার জায়গা হয়ে উঠতে লাগলো ঢাকা পোস্ট। যেহেতু জীবনযাপনের সবকিছু নিয়ে কাজ, কয়েকবার আয়োজন করা হলো পাঠকের স্মৃতি, পাঠকের লেখা নিয়ে বিশেষ সংখ্যার। সেসব বেশ সাড়া ফেলেছিল তখন। মানুষ নিজেকে যেখানে আবিষ্কার করতে পারে, সেখানেই জড়িয়ে থাকতে চায়। আমি চেষ্টা করেছি, পাঠক যেন এখানে এসে একটু হলেও নিজেকে দেখতে পায়।

আমার বিভাগে আমি একাই। আবার আপনি আমাকে একা না-ও বলতে পারেন। কারণ আমাদের এখানে সহকর্মীরা এত বেশি সহযোগিতাপরায়ণ যে আসলে কে কোন বিভাগের তা নিয়ে কারও খুব একটা মাথাব্যথা নেই। তাই আমার কাজ আরেকজনকে বুঝিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তও থাকতে পারি অনেক সময়, যখন প্রয়োজন হয়। এখানে কারও কাছে কোনো বিষয়ে সাহায্য চেয়েছি আর পাইনি, তা কখনো হয়নি। আসলে এখানে সবগুলো বিভাগ সবার। কারও লেখায় কোনো ভুল হলে তা সবার সামনে উপস্থাপন না করে গোপনে ঠিক করে দেন অন্য কেউ। যেন অন্যের ভুল মানে নিজেরই ভুল।
ঢাকা পোস্টের এগিয়ে চলার রহস্য কেউ কেউ জানতে চান আমার কাছে। আমার কাছে উত্তর হলো, কোনো রহস্য না থাকাই এর রহস্য। এখানে সবাই খোলা বইয়ের মতো। যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা, প্রয়োজনে সাহায্য করা। একসঙ্গে চা কিংবা কফি খেতে গল্প কিংবা আড্ডা। জটিলতা নেই বলেই এখানে এসে জীবন সহজ হয়ে যায়। এখানে সম্ভবত সব কর্মীই ইতিবাচক মানসিকতার, অন্তত অফিসে তো অবশ্যই। এখানে মুখে মুখে বলার চেয়ে কাজে প্রমাণের চেষ্টা বেশি। যা কি না আবার আপনাকে মুখে বলে বোঝানো যাবে না। হৃদ্যতা আসলে এমন এক বিষয়, যা হৃদয় দিয়েই অনুভব করতে হয়।
ষষ্ঠ বছরে পা রাখলো ঢাকা পোস্ট। আল্লাহ্ চাইলে আরও অনেক দূর যাবে। জানি না, আমরা কে কতদিন এখানে থাকবো। আজ যা বর্তমান, কাল তো তা-ই অতীত হয়ে যায়। তবে কর্মক্ষেত্র মানে যে এক পারিবারিক বন্ধনও, এগিয়ে যাওয়া মানে যে মূলত একে-অন্যের হাত ধরে থাকা, ভালো থাকার মানে যে আসলে অন্যের ভালো চাওয়া- এটুকু বুঝতে হলে আপনাকে একবার হলেও ঢাকা পোস্টে আসতেই হবে!