দুদকের প্রশ্নের জবাব দিতে সময় নিলেন আইডিয়ালের আতিকুর

Dhaka Post Desk

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৫ মে ২০২২, ০৮:৪৭ পিএম


দুদকের প্রশ্নের জবাব দিতে সময় নিলেন আইডিয়ালের আতিকুর

ভর্তিবাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ও সংস্কার কাজসহ বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধ উপার্জনের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখোমুখি হয়েছিলেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান।

দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হয়ে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মূলধন কিংবা পার্টনার ও কোম্পানিটির চেয়ারম্যান মো. শরীফ মোস্তাকের বিষয়ে অনেক প্রশ্নেরই জবাব দিতে পারেননি। দুদকের দেওয়া তথ্যানুসারে তাদের ডেভেলপমেন্ট কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত ১২টির বেশি ভবন নির্মাণের কাজ করেছে। শরীফ মোস্তাক কিছুদিন ধরে আমেরিকায় অবস্থান করছেন।

এমনকি ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক ও আতিকুরের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম নিপা কেন দুদকে হাজির হননি সে বিষয়েও যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। যথাযথ জবাব দিতে দুদকের কাছে আগামী ৯ জুন পর্যন্ত সময় নিয়েছেন আতিকুর। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বুধবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি টিম আতিকুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। টিমের অপর সদস্য সহকারী পরিচালক মাহবুবুর আলম। যদিও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সব প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন আতিকুর।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে একটি ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক আতিকুর রহমান খান। আর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের ছেলে মো. শরীফ মোস্তাক ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান। যার পরিচালক হলেন আতিকুরের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম নিপা। ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি গঠন ও কার্যক্রমে দুর্নীতির যোগসূত্র খোঁজার উদ্দেশ্যে তাদের তলব করা হয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান ঢাকা পোস্টকে বলেছিলেন, ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির বয়স ৬ বছর। আমি কোম্পানির ফাউন্ডার এমডি। ২০১৬ সালে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শরীফ মোস্তাক একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন, এখন নেই। বর্তমানে আমার নেতৃত্বে কর্মকাণ্ড চলছে। আফতাব নগরে বেশকিছু কাজ করেছি, এখনো কিছু কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড আমার প্রতিষ্ঠান। এটা অস্বীকার করছি না। তবে আমি ঋণ নিয়ে কাজ করছি। ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ব্যবসার মাধ্যমে আমি একটা অবস্থান তৈরি করেছি। এ বিষয়টি অনেকের ভালো লাগছে না।

ভর্তি বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে আতিক বলেছেন, আমাকে বলা হচ্ছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অথচ আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা নই। ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। দুদক পুরো তালিকা নিয়েছে, সেখানে আমার কোনো রেফারেন্স পায়নি। কোনো কাগজপত্রে আমার সই নেই। তাহলে কীভাবে ভর্তি বাণিজ্য করলাম? আয়কর নথিতে যে সম্পদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেটাই আমার সম্পদ। এর বাইরে কোনো সম্পদ নেই।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে প্রথমবারের মতো আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই বছরের ৮ আগস্ট দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২১ সালের ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আতিকুর রহমান খান ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কোনো পদ নেই। অবৈধভাবে এ পদ সৃষ্টি করে অধ্যক্ষ শাহান আরা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমানের ৯৭টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টে ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধ ভর্তিসহ সব বাণিজ্যের প্রধান আতিকুর রহমান। তিনটি ক্যাম্পাসের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ড্রেস তৈরি, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি সবই তার নিয়ন্ত্রণে। এমনকি স্কুলের সামনে ফুটপাতে শতাধিক দোকান বসিয়েও তিনি আয় করেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে যত ধরনের কেনাকাটা, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ হয়, তার সবই করেন আতিক ও তার লোকেরা। দরপত্রেও অংশ নেয় নামে-বেনামে তারই প্রতিষ্ঠান। সেখানে চলে বড় ধরনের লুটপাট।

গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং কর্মচারী নিয়োগে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির পৃথক একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

আরএম/এসএম

Link copied