অপরাধীদের যারা সীমান্ত পার করেছে তাদের নির্বাচিত করবেন কি না ভাবতে হবে

আওয়ামী আমলে দুর্নীতি করে, অপরাধ করে যারা কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে তাদের দেশ থেকে পালাতে সহায়তাকারীদের আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন কি না সে ব্যাপারে ভোটারদের ভাবতে বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে যারা অপরাধ করেছে তাদের অনেককে আমাদের দেশের রাজনৈতিক এলিটরা কোটি টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছেন। যারা এ কাজ করেছেন এসব লোককে আপনারা নির্বাচিত করবেন কি না তা চিন্তা করতে হবে। এখন সময় এসেছে—এমন লোকদের আমরা নির্বাচিত করব কি না এটা ভাবার।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে গেছে, এটাকে ধীরে ধীরে নির্মূল করতে হবে। এখনকার বাস্তবতা হলো—গত ১৫ বছরে যেসব দেশে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেছে, সেখানে আজ আমাদের কার্যকর যোগাযোগ নেই; এমনকি যোগাযোগের পথও খুঁজে পাচ্ছি না। বিদেশে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ‘ডার্টি মানি’ হিসেবে পড়ে আছে। সেসব দেশে এই অর্থ উদ্ধার বা ব্যবস্থাপনার মতো লোকবলও আমাদের নেই।
আগে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা আসত উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, এখন বাস্তবতা উল্টো— এখন বাংলাদেশ থেকে অর্থ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যায় এবং পরে কোনো না কোনোভাবে আবার দেশে ফিরে আসে। এসব লেনদেনে বিভিন্ন ধরনের ‘ইনসেন্টিভ’ও থাকে। এত বড় কাঠামো একদিনে, একমাসে বা এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকেই দেশ ছেড়েছেন– পালিয়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররমের খতিব– এটিই দেখায় দুর্নীতি কত গভীরে পৌঁছেছে। যদি শুরুতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যেত, তাহলে আমাদের ১৫–১৬ বছর ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছিলেন। সেখানে কৃষিজমির পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ৫ দশমিক ২১ একর। ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন যাচাই করেও তাতে সমস্যা পাওয়া যায়নি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, জমি রয়েছে ২৯ একর। গাড়ির বিবরণীতেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়– অতিরিক্ত দুটি গাড়ি যুক্ত ছিল, যার একটি তৎকালীন এক এমপি এবং অন্যটি সাবেক যুব প্রতিমন্ত্রীর নামে, যা কিনা ‘পাঁচ নম্বর সুধা সদন’-এর নামে কেনা হয়েছিল এবং সরকারের ভর্তুকিও দেওয়া হয়নি।
‘যদি তখনই এসব অসঙ্গতি ধরা হতো, সে ক্ষেত্রে তার (শেখ হাসিনা) নমিনেশন বাতিল হতো। নমিনেশন বাতিল হলে তিনি এমপি বা প্রধানমন্ত্রী– কিছুই হতে পারতেন না। এমনকি তার দল ক্ষমতায় আসত কি না সেটাও প্রশ্ন ছিল’- বলেন আব্দুল মোমেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক।
দুদকের কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, দুদক মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, আক্তার হোসেন, আবু হেনা মুস্তফা জামান, মোকাম্মেল হক এবং দুদকের পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক ও উপসহকারী পরিচালকসহ পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরএম/বিআরইউ