আইসিটি ও টেলিযোগাযোগে ভারতনির্ভরতা কমানোর দাবি

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে অতিমাত্রায় ভারতনির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা তুলে ধরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এমন দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের মোবাইল অপারেটর, টাওয়ার কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ, সফটওয়্যার সেবা, নেটওয়ার্ক মেইনটেন্যান্স, ভেন্ডর সাপোর্ট, কল সেন্টার, আইটি আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন কোর নেটওয়ার্ক সেবায় দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের আধিপত্য তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশীয় দক্ষ জনশক্তি বঞ্চিত হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং জরুরি সময়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তারা আরও বলেন, মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ও ডেটা রুটিংয়ে ভারতীয় নির্ভরতার কারণে দেশের তথ্য নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। একইসঙ্গে সফটওয়্যার, বিলিং সিস্টেম, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) ও ভেন্ডর সাপোর্টে দেশীয় বিকল্প থাকা সত্ত্বেও সেগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের বলেন, স্বনির্ভর প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তার বাস্তব উদাহরণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বাংলাদেশ এখনো এই খাতে পুরোপুরি পরনির্ভরশীল। দেশে প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন হয়, যা সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভরশীল টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছে। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা সংকট তৈরি হলে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, তা সরকারকে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতে অতিমাত্রায় ভারতনির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতা তুলে ধরতেই সংগঠনটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
মানববন্ধন থেকে স্বনির্ভর টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি সেবা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবিও জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন, মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিতে দেশীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ও ডেটা রুটিংয়ে বহুমুখীকরণ এবং দেশীয় অবকাঠামো জোরদার করা।
এ ছাড়া সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক মেইনটেন্যান্স ও আইটি সেবায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে বিদেশি ভেন্ডর ও জনবলের কার্যক্রম কঠোর নজরদারিতে আনা এবং দেশীয় প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তুলতে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকার ও সমাজকর্মী সাধনা মহল, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য মাহফুজ, নকিব খান, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু।
আরএইচটি/এসএসএইচ