হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবায় অনিয়ম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট।
দুদক জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদকের জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে দেখা যায়, গত প্রায় ১৫ মাসে বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় ৯টি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে—প্রো-ভিসি (একাডেমিক)-এর কন্যা ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে, প্রো-ভিসি (প্রশাসন)-এর ভাগনে ক্রিমিনোলজি বিভাগে এবং রেজিস্ট্রারের ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। এমন অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া, বাংলা বিভাগ এবং ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সুপারিশ ছাড়াই শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বিজ্ঞাপিত যোগ্যতা পূরণ, বিভাগীয় প্লানিং কমিটির অনুমোদন, সিলেকশন বোর্ডের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। সংগৃহীত কাগজপত্র বিশ্লেষণ শেষে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানকালে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়।
এতে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিম্নমানের এবং পরিমাণেও অপর্যাপ্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়।
এ ছাড়া, হাসপাতালের প্যাথলজি পরীক্ষার রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রয়োজনীয় রিএজেন্টের অপ্রতুলতার কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অভিযানকালে হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা অবস্থায় পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানানো হয়েছে।
আরএম/এএমকে