স্বামী পরিচয়ে ঢামেকে মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়া সেই যুবক গ্রেপ্তার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্ত্রীকে ‘অসুস্থ’ পরিচয়ে নিয়ে এসেছিলেন এক যুবক। তবে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরুর আগেই সটকে পড়েন তিনি। পরে জানা যায়, ওই নারী ছিলেন মৃত এবং তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার প্রধান আসামি ও নিহতের কথিত স্বামী মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে নয়নকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে র্যাব-৩-এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া এই গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানাধীন শুভেচ্ছা ক্লিনিকের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৪-এর সহায়তায় আসামি আশরাফুল ইসলাম নয়নকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব-৩।
গ্রেপ্তার আশরাফুল মাগুরা সদর উপজেলার পুখরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব জানায়, নিহত গার্মেন্টসকর্মী রাশেদা বেগম (২২) এবং গ্রেপ্তার আশরাফুল একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাশেদা রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন সুরুজখান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২০ ডিসেম্বর রাতে আশরাফুল তাকে বাসা থেকে ফুসলিয়ে তেজগাঁওয়ের পশ্চিম তেজতুরী বাজারের হাশেম ম্যানশনের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। ওই বাসায় তারা দুই দিন একসঙ্গে অবস্থান করেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ ডিসেম্বর বিকেলে আশরাফুল তড়িঘড়ি করে রাশেদাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে নিজেকে রাশেদার স্বামী পরিচয় দিয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলে তিনি কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা রাশেদাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, রাশেদার পরিবার ২০ ডিসেম্বর থেকে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে তেজগাঁও থানা-পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে থাকা অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর মরদেহ- রাশেদার বলে শনাক্ত করেন স্বজনেরা। এই ঘটনায় গত ২৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার পর থেকেই র্যাব-৩-এর গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অবশেষে মূল অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম নয়নকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এসএএ/বিআরইউ