আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় শুধু প্রযুক্তি নয়, দক্ষ মানবসম্পদই বড় শক্তি

আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নত প্রযুক্তির চেয়েও দক্ষ মানবসম্পদকে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত দেশে প্রথম ‘রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া ক্যাডেভার ওয়ার্কশপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তিনি হাসপাতাল-সংক্রমণ ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বিএমইউর অ্যানেসথেশিয়া, এনালজেশিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের পেইন মেডিসিন ডিভিশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে এই ব্যতিক্রমী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
আধুনিক ও নিরাপদ অ্যানেস্থেসিয়া চর্চায় চিকিৎসকদের হাতে-কলমে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মশালায় রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড পদ্ধতি এবং নিডলিং কৌশলে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ‘আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় উন্নত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির সঙ্গে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত না হলে রোগীসেবার মান টেকসই হবে না। ক্যাডেভারভিত্তিক (মানব মৃতদেহ) এই প্রশিক্ষণ চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসা শিক্ষায় বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতা রোগীদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলদার বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিএমইউর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. লুৎফুল আজিজ জানান, রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া আধুনিক শল্যচিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা রোগীর ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
কর্মশালায় ফরেন ফ্যাকাল্টি হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়ার ক্যাডেভার ওয়ার্কশপের প্রধান প্রফেসর পল কেসলার। অংশগ্রহণকারী ২০ জন চিকিৎসক মানব মৃতদেহ ব্যবহারের মাধ্যমে শরীরের শারীরবৃত্তীয় গঠন ও স্নায়ুর অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আয়োজকরা জানান, রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করে নির্দিষ্ট অংশে নিরাপদভাবে অপারেশনের জন্য রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া অত্যন্ত কার্যকর।
বিএমইউর আইসিটি ডিরেক্টর ও অ্যানেসথেশিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই কর্মশালা শেষে জানানো হয়, ভবিষ্যতে প্রতি বছর ন্যূনতম দুইবার এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উদ্যোগ বিএমইউর পেইন স্কিল অ্যান্ড ফাসিনেশন ল্যাবের জন্য ইউরোপিয়ান সোসাইটি অফ রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়ার স্বীকৃতি অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
টিআই/বিআরইউ