ঢাকা জেলার ৫ আসন : প্রতীক বরাদ্দ শেষে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি প্রার্থীদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের (ঢাকা-১, ২, ৩, ১৯ ও ২০) প্রার্থীরা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোট উপলক্ষ্যে আচরণবিধি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা এবং প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। প্রতীক বরাদ্দ গ্রহণকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা বলেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রার্থী ও ভোটাররা নানা কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কোনোভাবেই যেন এবারের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রার্থীরা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
এতে সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকার জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলে ধরেন এবং নির্বাচনকালীন পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট ভূমিকা কামনা করেন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রার্থীদের উত্থাপিত সব অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখব। সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কেউ যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন, আমাদের জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রেও সবাইকে সংবেদনশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা হয়রানিমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। যাতে সকলেই নিরাপদে ভোট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা প্রশাসন নিশ্চিত করবে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহযোগিতার জন্য পুলিশ বাহিনী সবসময় প্রস্তুত থাকবে। কোনো এলাকায় যদি পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়া যায়, তাহলে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠান শেষে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন করা হয়।
ঢাকা জেলার এই পাঁচটি আসনে মোট ৩২ জন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঢাকা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১ আসনে ছয়জন, ঢাকা-২ আসনে তিনজন, ঢাকা-৩ আসনে ৯ জন, ঢাকা-১৯ আসনে আটজন এবং ঢাকা-২০ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তবে মনোনয়ন বৈধ হলেও তিন আসনে চার প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১ আসনে খেলাফত মজলিসের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের এ কে এম এনামুল হক এবং ঢাকা-২০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুর রউফ মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ঢাকা-১ আসনে বিএনপির খন্দকার আবু আশফাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মোহাম্মদ আলী, ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী নূরুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র অন্তরা সেলিম হুদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ঢাকা-২ আসন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জহিরুল ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর কর্নেল (অব.) আব্দুল হক নির্বাচনে লড়বেন।
ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামায়াতে ইসলামীর মো. শাহীনুর ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর, গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সুলতান আহমদ খান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মজিবুর হাওলাদার, গণফোরামের মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী ও জাতীয় পার্টির মো. ফারুক নির্বাচনে লড়াই করবেন।
ঢাকা-১৯ আসনে বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম, এনসিপির দিলশানা পারুল, গণঅধিকারের শেখ শওকত হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ইসরাফিল ইসলাম সাভারী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ফারুখ খান, এনডিপির চৌধুরী হাসান সোরোয়ার্দী ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ ছাড়া ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আহসান খান, এনসিপির নাবিলা তাসনিদ, খেলাফত মজলিসের আশরাফ আলী, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আরজু মিয়া ও এবি পার্টির হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ নির্বাচনে লড়বেন।
এনআর/এসএসএইচ