মধ্যবিত্তের জন্য ‘রেন্ট-টু-ওউন’ আবাসন ও স্মার্ট পরিবহনের ঘোষণা

পরিবহন খাতের সিন্ডিকেট নির্মূল করে আধুনিক ‘স্মার্ট মোটরওয়ে’ নির্মাণ এবং মধ্যবিত্তের আবাসন সংকট মেটাতে ‘রেন্ট-টু-ওউন’ বা ভাড়া-ভিত্তিতে মালিকানা প্রকল্পের স্বপ্ন দেখাচ্ছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে নাগরিক জীবনের এসব মৌলিক সংকট নিরসনে একগুচ্ছ উচ্চাভিলাষী ও আধুনিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ বদলাবে, নতুন নেতৃত্বে’ শীর্ষক এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এমন আবাসন ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে মাসিক ভাড়ার একটি অংশ ফ্ল্যাটের কিস্তি হিসেবে গণ্য হবে, যা নির্দিষ্ট সময় পর ভাড়াটিয়াকে মালিকানা অর্জনে সহায়তা করবে।
অন্যদিকে এবি পার্টির ইশতেহারে মুখস্থনির্ভর শিক্ষা বাদ দিয়ে সৃজনশীল ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক পাঠ্যক্রম চালুর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে কার্যকর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং দেশের সব নাগরিকের জন্য ‘জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দলটি ক্ষমতায় গেলে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের বিমার খরচ সরকার বহন করবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য থাকবে একটি ইউনিক ‘হেলথ আইডি কার্ড’।
পরিবহন ও আবাসন
পরিবহন খাতের সিন্ডিকেট ভাঙতে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে ‘গ্রিন অ্যান্ড রেড’ বাস সার্ভিস এবং মেট্রো ও বাসে সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও তরুণ পেশাজীবীদের জন্য ‘রেন্ট-টু-ওউন’ আবাসন প্রকল্প এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য স্মার্ট মোটরওয়ে নির্মাণের অঙ্গীকার করেছে দলটি। আর বেকারত্ব নিরসনে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘জাতীয় কর্মসংস্থান মিশন’ এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ স্টার্ট-আপ ফান্ড’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়োগ পোর্টাল চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এবি পার্টি।
নারী নিরাপত্তা ও পরিবেশ
নারীদের জন্য নিরাপদ টয়লেট সুবিধা বাধ্যতামূলক করা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস নিশ্চিত করা এবং রাতে চলাচলের জন্য ‘নাইট বাস’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া জলাভূমি ও নদী রক্ষায় ‘ইকোলজিক্যাল জোনিং’ এবং ঢাকা শহরের চারপাশে সবুজ বাফার জোন তৈরির কথা ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি
এবি পার্টি তাদের ইশতেহারে একটি স্বাধীন ও মর্যাদাভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির কথা বলেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ন্যায্যতার ভিত্তিতে অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের চেষ্টার পাশাপাশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক মর্যাদা বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছে দলটি।
এছাড়া প্রতিরক্ষা বাহিনীকে রাজনীতিমুক্ত রাখা এবং ১৮ বছরোর্ধ্ব শিক্ষার্থীদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী ‘পার্ট-টাইম ন্যাশনাল সার্ভিস’ বা সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করা হবে। আর সরকারে না থাকলেও সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
আরএইচটি/এমজে