আটঘাট বেঁধে নামছে সরকার

প্রতিদিন জাতীয় দৈনিকে অসংখ্য খবর প্রকাশিত হয়। এখানে আলোচিত কিছু খবরের সংকলন করা হলো।
প্রথম আলো
জনপ্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষায় আরও পরিবর্তন আসছে
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল চলছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
নতুন সরকারের কাঁধে হাজার কোটি টাকার বোঝা
গণ-অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে; যার সব এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর ব্যাপারে আপত্তি রেখে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু তারাও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে রাজধানীতে গতানুগতিক একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করে রেখে গেছে। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি কর্মক্ষম করে তুলতে হলে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন, যা নতুন সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে আরেকটি বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার মতোই।
বণিক বার্তা
কৃষকের ব্যয় ও আমদানি নির্ভরতা কমানোই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ
সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে অধীনস্থ অধিদপ্তর ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেয় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তরগুলো তাদের অগ্রাধিকারের বিষয়ে প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষককে সহায়তা প্রদান, টেকসই কৃষি, কৃষকের ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে।
বিবিসি বাংলা
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ঘিরে ক্ষুব্ধ ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি বক্তব্য নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিজের বক্তব্যে 'ফ্রান্সে সহিংসতা 'বৃদ্ধি' পেয়েছে', বলে দাবি করেছিলেন ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনার। যা ভালো ভাবে নেননি ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারো।
দেশ রূপান্তর
পুলিশ হত্যারও তদন্ত হবে
২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের স্থাপনাগুলোয় ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল এবং পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছিল, ৪৪ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা যদিও এত কম সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি মানতে নারাজ, তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তদন্তের দাবি ওঠালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। তবে নতুন সরকার আসার পর পুলিশ হত্যা এবং স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলোর তদন্তে গ্রিন স্নিগন্যাল মিলেছে।
প্রথম আলো
সরকারি চা-বাগানে ‘ভুতুড়ে’ শ্রমিক
সরকারি বেতন-ভাতা তোলার খাতায় নাম আছে, প্রভিডেন্ট ফান্ডে হিসাব আছে, নিয়মিত হাজিরা ও রেশন তোলার তালিকায় সইও আছে। কিন্তু খাতায় থাকা কিছু শ্রমিকের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের কেউ বহু বছর আগে মারা গেছেন, কেউ অবসরে গেছেন, কারও অস্তিত্বই নেই; অথচ পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত চলছে তাঁদের হাজিরা ও বেতন-ভাতা তোলা।
বণিক বার্তা
পরিবহন থেকে চাঁদা তোলে মালিক-শ্রমিকদের ৯৩২ সংগঠন
পরিবহন খাতে শ্রমিক সংগঠনের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা গেলেও মালিক সংগঠনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব সংগঠনের আওতায় আবার দেশের প্রতিটি জেলায় একাধিক সংগঠন থাকার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে ঠেলাগাড়ি, রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক ও নসিমন-করিমনের মতো স্থানীয়ভাবে তৈরি পরিবহনের জন্যও রয়েছে আলাদা আলাদা সংগঠন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে সড়ক পরিবহন খাতে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনের সংখ্যা ৯৩২। এসব সংগঠনের আয়ের প্রধান উৎস পরিবহন থেকে তোলা চাঁদার টাকা। সংগঠনগুলোর দাবি, এ চাঁদা সংগঠন পরিচালনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় খরচ করা হয়। যদিও এ ধরনের ব্যয় আদায়কৃত চাঁদার তুলনায় নগণ্য বলে মনে করেন খাতসংশ্লিষ্ট অনেকে।
কালের কণ্ঠ
সক্ষমতা হারিয়ে ধুঁকছে বেসরকারি খাত
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত বর্তমানে কার্যত রুগ্ণ। গত কয়েক বছরের সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, তীব্র জ্বালানিসংকট এবং ডলারের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপে পিষ্ট উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে গত দেড় বছরের অস্থির সময়ে শিল্পের প্রত্যাশিত বিকাশ না হওয়ায় দেশে নতুন বিনিয়োগ হয়নি বললেই চলে। এমন এক ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা ফেরাতে এবং স্থবির অর্থনীতিকে টেনে তুলতে নতুন সরকারের নীতির দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন উদ্যোক্তারা।
প্রথম আলো
চাঁদা ‘না দেওয়ায়’ কারখানা ভাঙচুর, ট্রাক এনে পণ্য লুট
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম। এ গ্রামে রয়েছে শারীরিক প্রতিবন্ধী মনোয়ার হোসেন ওরফে অপুর (৪৩) জিআই তার উৎপাদনের একটি কারখানা। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিসহ ১২টি দেশে রপ্তানি হয় এ জিআই তার।
সমকাল
দেশে আট বছরে নতুন ১২ মাদক
দেশে বিভিন্ন সময়ে নতুন নতুন মাদক নিয়ে এসেছে চোরাকারবারিরা। সবচেয়ে বেশি নতুন মাদক এসেছে গত আট বছরে। এই সময়ে দেশে ১২ ধরনের নতুন মাদক প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া নতুন আঙ্গিকে হেরোইন ও কোকেনের চালানও এসেছে।
আজকের পত্রিকা
হাজার মানুষের জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা
সম্প্রতি হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা নিয়ে ময়মনসিংহের একটি মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন চল্লিশোর্ধ্ব আজহার আলী (ছদ্মনাম)। চিকিৎসকের সুপারিশে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে ভর্তি থাকার চার দিনের মধ্যে তিন দিনই আজহারকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
যুগান্তর
সুবিধা পাবে না ছয় শ্রেণির মানুষ
পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে সে পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে না। তেমনি বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিকও এ সুবিধা পাচ্ছেন না। নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের মধ্যে ছয় শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রেখে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও যারা কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন না, তারা হলেন-পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক বা বড় ব্যবসা থাকলেও এ কার্ড পাওয়ার অযোগ্য হবেন।
সমকাল
সারের বাড়তি দর, চাপে কৃষক ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা
খুলনার কয়রার গাতিঘেরি গ্রামের কৃষক দেবাশীষ মণ্ডল এবার বোরো ধান চাষ করেছেন আট বিঘা জমিতে। মৌসুমের শুরুতে সরকার নির্ধারিত দামে সার কিনতে পেরেছেন। তবে মৌসুমের মাঝামাঝি এসে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৬ টাকা বেশিতে ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে তাঁকে। এ ছাড়া টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সার কিনতে গিয়ে কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে শ্রমিক ও সেচ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষাবাদে এবার লোকসানের শঙ্কায় আছেন এ কৃষক।
কালবেলা
আটঘাট বেঁধে নামছে সরকার
ভঙ্গুর পুলিশি ব্যবস্থায় ‘মব’ থেকে ছিনতাই—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অপরাধের নানা সূচক ছিল নিম্নমুখী। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ন্যূনতম ছাড় দিতে নারাজ। এজন্য আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছে নতুন সরকার। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার পুলিশপ্রধান পদে আনা হয়েছে নতুন মুখ। নানা ক্ষেত্রে আসছে আরও পরিবর্তন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বাহিনী ও সরকার সংশ্লিষ্ট ঘনিষ্ঠ সূত্রে মিলেছে এ তথ্য।