নারীদের ঈদ কেনাকাটায় পছন্দের শীর্ষে পাকিস্তানি ড্রেস, নেই একক আধিপত্য

কয়েক বছরের ব্যবধানে ঈদ আয়োজনে নারীদের পছন্দে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ভারতীয় টেলিভিশন সিরিয়ালের আলোচিত চরিত্রের নামে তৈরি করা পোশাকগুলো ৪-৫ বছর আগেও নারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকলেও এখন সেটি দেখা যায় না। ‘পাখি’ কিংবা ‘কটকটি’ ড্রেসের মতো ঈদে একক কোনো ড্রেসের আধিপত্যও নেই। উল্টো ভারতীয় ড্রেসের পরিবর্তে এবার ঈদে পাকিস্তানি ড্রেসে নারীদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও নামি-দামি অনেকগুলো শোরুম ঘুরে দেখা যায়, এখন প্রায় সবখানেই নারীদের ঈদ কেনাকাটায় উপচে পড়া ভিড় বিরাজ করছে। পুরুষের তুলনায় শপিংমল কিংবা শোরুমে নারীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। নারীদের কেনাকাটায় থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, গাউন ও শাড়ি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
বিভিন্ন শপিংমলে এবার ভারতীয় পোশাকের চেয়ে পাকিস্তানি পোশাকের কদর বেশি দেখা গেছে। তবে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা কমলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। পাকিস্তানি পোশাকের মধ্যে ফারসি, মারিয়া, সাতরাহা, কারিজমা ও হোসনেআরা নামের পোশাকের চাহিদা বেশি। অন্যদিকে ভারতীয় পোশাকের মধ্যে কারচুপি, জারদোসি ও হাতের কাজ করা পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

মানভেদে চাহিদার তুঙ্গে থাকা পাকিস্তানি বিভিন্ন ধরনের পোশাক ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ভারতীয় মুম্বাইয়ের বিভিন্ন পোশাকও কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে, কোনো কোনো শোরুমে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ কিংবা তার চেয়ে বেশি দামেও পাকিস্তানি ও ভারতীয় ড্রেস বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নূরজাহান ও রাজধানী মার্কেটে ঘুরে দেখা যায়, এবার সুতি ও আরামদায়ক সিল্ক ত্রি-পিসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খুব বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে বাহারি ডিজাইনের কুর্তি। আর এবারও ‘আভিজাত্যের প্রতীক’ হিসেবে শাড়ির বেচাকেনা বরাবরের মতোই ভালো।

নিউ মার্কেটে বাবার সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা সুমাইয়া নামের এক তরুণী বলেন, আমার সুতি থ্রি-পিস বেশি পছন্দের এবং দামও সাধ্যের মধ্যে থাকে। তাছাড়া আরামদায়ক হওয়ার সবসময় আমি সুতি থ্রি-পিস কিনতে পছন্দ করি। এবারও সুতির থ্রি-পিস কিনবো। পাকিস্তানি সুতি ড্রেস পছন্দ ও বাজেটের মধ্য পাওয়া গেলে সেটি কিনবো।
রাজধানী মার্কেটে ঈদের পোশাক কিনতে এসেছিলেন সাম্মি রহমান। তিনি জানান, গত বছর ঈদে একটা ফারসি ড্রেস কিনেছিলাম। সারাবছর ব্যবহার করে খুবই আরামদায়ক ও ভালো অনুভব করেছি। এবারও পছন্দ ও বাজেটে মিললে পাকিস্তানি ড্রেস কেনার ইচ্ছে আছে।

নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের বাজেট নিয়ে চিন্তা থাকলে উচ্চবিত্তের কেনাকাটায় বরাবরের মতো ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক ডিজাইনে গুরুত্ব দিতে দেখা গেছে। নবরূপা, রূপসি বাংলা, রূপাঞ্জেলসহ বেশ কিছু নামি-দামি শোরুমের দেশি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের পাশাপাশি বিদেশি বাহারি ডিজাইনের রুচিশীল ড্রেসে ঝুঁকছেন তারা। রাজধানীর ওয়ারীতে অবস্থিত এসব শোরুমের শাখাগুলোতে ঘুরে ঈদ উপলক্ষ্যে নারীদের জন্য পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, গাউন, ফ্লোর টাচ গাউনসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের রমরাম বেচাবিক্রি দেখা গেছে। পাশাপাশি এখানে ক্রেতাদের মধ্যে দাম নিয়ে যেমন কোনো প্রশ্ন নেই, তেমনি পোশাকের মান নিয়েও নেই প্রশ্ন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে দেশে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৯ পিস মেয়েদের পোশাক আমদানি হয়েছে। এসব পোশাক আমদানি করা হয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ ১১টি দেশ থেকে। তবে এসব পোশাকের প্রায় ৯৫ শতাংশই এসেছে পাকিস্তান ও ভারত থেকে।
এমএমএইচ/এমএন