চাচার মামলায় ‘চাঁদাবাজ’ তকমা, পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন!

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে একটি ফ্ল্যাট ও পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন চার ভাই ও ভাতিজাদের মামলা দিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে শেখ মোহাম্মদ অলি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী দুই ভাতিজার দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও বিরোধের জেরে চাচা তাদের নামে মিথ্যা ‘চাঁদাবাজি’র মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।
বিরোধের মূলে ফ্ল্যাট ও পার্কিং
ঢাকার খিলগাঁও তালতলার ৩০২/বি নম্বর বাড়িতে এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। জানা গেছে, একটি আবাসন কোম্পানির মাধ্যমে পাঁচ ভাই মিলে বাড়িটি নির্মাণ করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেকে একটি করে ফ্ল্যাট ও পার্কিংয়ের জায়গা বুঝে পান। তবে এর বাইরে একটি অতিরিক্ত ফ্ল্যাট ও গ্যারেজের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অতিরিক্ত অংশের দখল নিতে শেখ মোহাম্মমদ অলি তার ভাই ও ভাতিজাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
মিথ্যা মামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী ভাতিজা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ‘এলাকার সবাই আমাকে চেনেন। আমি কখনও কারও সঙ্গে জোরে কথা পর্যন্ত বলিনি। অথচ আমার আপন চাচা আমার বিরুদ্ধে মারধর ও চাঁদা দাবির মিথ্যা মামলা করেছেন। এই মামলার কারণে আমি ও আমার পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।’
নথি অনুযায়ী, শেখ অলি ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ও ২২ সেপ্টেম্বর সিএমএম আদালতে দুটি মামলা (মামলা নং ৪৩৯/২৫ এবং ৫০৪/২৫) দায়ের করেন। এর মধ্যে ৫০৪/২৫ নম্বর মামলাটি পরবর্তীতে তিনি প্রত্যাহার করে নেন।
পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন
অপর মামলায় পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর শাহীন ও রাজুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রামপুরা থানার তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত না করেই একপাক্ষিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মো. রাজুর পিতা মো. ইউছুফ মিয়া গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ইউছুফ মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শেখ অলি গত পাঁচ বছর ধরে আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ নিয়ে আমি রামপুরা থানায় জিডিও করেছিলাম। অথচ পুলিশ পরিদর্শক (আইও) মো. ওবায়দুল হক তদন্ত না করেই বাদীর পক্ষে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। আমরা তদন্ত কর্মকর্তাদের পারিবারিক সমস্যার সব তথ্য দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।’
পার্কিং ও অতিরিক্ত ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্ব
আরেক ভাতিজা মো. রাজু জানান, তাদের বাবা ও চাচারা মিলে চারটি দোকান করেছেন, যার মধ্যে একটির ভাড়ার টাকা সম্পূর্ণ শেখ অলি ভোগ করেন। এরপরও তিনি দোকানের পেছনের জায়গায় জোর করে গাড়ি পার্ক করতে চান এবং দোকান ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। এছাড়া বাড়ির অতিরিক্ত ফ্ল্যাটটি ভাগাভাগি হওয়ার পর তাদের অংশের ভাড়াটিয়াকেও তিনি বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রাজুর।
অভিযুক্তের বক্তব্য
সব অভিযোগ অস্বীকার করে শেখ মোহাম্মদ অলি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘ওরা চার ভাই আর আমি একা; আমি কি ওদের সঙ্গে পারব? ওরা হিংসা করে আমার গাড়ি গ্যারেজে রাখতে দেয় না। গ্যারেজে ভাঙারি মালামাল রেখে আমার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র বাহনটি নষ্ট করছে।’
মীমাংসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওরাই মীমাংসা করতে চায় না এবং আমার পাওনা বুঝিয়ে দিচ্ছে না।’
পুলিশের বক্তব্য
রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অবগত নই। তবে, তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশ্চয়ই তার তদন্তের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে তাদের যদি আপত্তি থাকে তাহলে তারা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে যেতে পারেন।
এমটিআই