তরুণদের সামনে বিদ্রোহী কবি নজরুলকে তুলে ধরার আহ্বান চট্টগ্রাম ডিসির

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে তাদের সামনে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা ও আদর্শ তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বুধবার (১১ মার্চ) নগরের ডিসি হিলে জাতীয় কবির নামে নির্মিত ‘নজরুল স্কয়ার’-এর সংস্কার পরবর্তী মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা চাই নতুন প্রজন্ম জানুক– কার গান গেয়ে তারা উদ্দীপ্ত হয়, কার লেখনী তাদের আন্দোলিত করে এবং কার চেতনা তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শক্তি দেয়। সেই লক্ষ্যেই নজরুল স্কয়ারকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সমাজে কোনো অন্যায় বা অবিচার দেখা দিলে তরুণ প্রজন্ম আবারও নজরুলের চেতনাকে সামনে রেখেই রুখে দাঁড়াবে– এমন প্রত্যাশা থেকেই ডিসি হিলের এই সংস্কার কাজ।”
অনুষ্ঠানে জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, কবি নজরুলকে তার প্রাপ্য সম্মানের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান অসামান্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এমনকি ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তার চেতনা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বিদ্রোহী কবিতার মাধ্যমে তিনি যে প্রতিবাদের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন, প্রায় এক শতাব্দী পরও সেই চেতনা সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে কবির সর্বজনীনতার উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯২৫ সালে রচিত ‘নারী’ কবিতাও আজকের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আবার রমজান মাস এলেই যে গান গেয়ে মানুষ ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করে– ‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’– সেটিও জাতীয় কবির অমর সৃষ্টি। বিদ্রোহ, সাম্য ও গণজাগরণের এই কবির চিন্তা ও চেতনার গভীর প্রভাব বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছে।
ডিসি হিলের নজরুল স্কয়ারের ইতিহাস তুলে ধরে জানানো হয়, এই এলাকাটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে ২০০৫ সালে নজরুল স্কয়ার স্থাপন করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আশপাশের সড়কের উচ্চতা বাড়ার ফলে স্কয়ারের মনুমেন্টটি তুলনামূলক নিচু হয়ে পড়ে এবং স্থানটি জীর্ণ-শীর্ণ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। সেই প্রেক্ষাপটেই জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নজরুল স্কয়ারকে নতুন রূপে সংস্কার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/বিআরইউ