ভোগান্তি এড়াতে অগ্রিম টিকিট, ‘পেরেশানি ছাড়াই ঢাকায় ফিরেছি’

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ শেষে এবার চিরচেনা ব্যস্ততায় ফেরার পালা। স্বজনদের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় সময় আর শেকড়ের স্মৃতি বুকে নিয়ে আবারও কর্মস্থলে ফিরছেন শ্রমজীবী মানুষ।
বিজ্ঞাপন
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ (মঙ্গলবার) অফিস-আদালত ও ব্যাংক খুলেছে। আর ফেরার প্রথম দিনেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে রাজধানীমুখী যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য চাপ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সরেজমিনে গাবতলী এলাকায় দেখা যায়, দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রী নিয়ে একের পর এক বাস টার্মিনালে এসে ভিড়ছে।
বাস থেকে নেমে হাতে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যের দিকে ছুটছেন মানুষ। টানা ছুটির পর আজ থেকে কর্মব্যস্ততা শুরু হওয়ায় গ্রাম থেকে ফেরা মানুষের এই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ফেরার এই স্রোতের বিপরীতে কাউকে কাউকে এখনো ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতেও দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
জীবিকার প্রয়োজনে স্ত্রী-সন্তানদের গ্রামেই রেখে কর্মস্থলে ফিরতে হয়েছে আবুল কালাম আজাদকে। তিনি একটি আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা থেকে আসা আজাদ বলেন, ‘কর্মস্থলে যোগ দিতে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবাসহ পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে। কষ্ট লাগলেও দু-চারদিন পর আবার অভ্যস্ত হয়ে যাব। তবে স্ত্রী-সন্তানরা আমার সঙ্গে আসেনি। তারা আরও কয়েক দিন পর ফিরবে।’
বগুড়া থেকে ফেরা মো. খোকন জানান তার স্বস্তির কথা। ভোগান্তি এড়াতে তিনি যাওয়ার সময় আগেভাগেই ফেরার টিকিট কেটে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভোগান্তি এড়াতে ঈদের আগে যাওয়ার সময়ও বাসের টিকিট কেটে রেখেছি। এ জন্য পেরেশানি ছাড়াই ফিরতে পেরেছি। রাস্তাঘাটেও তেমন যানজট পাইনি। সব মিলিয়ে ঠিকঠাক আসতে পেরে ভালো লাগছে।’
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ফেরার এই চাপ আগামী কয়েক দিন বজায় থাকবে। রাবেয়া পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়া, কুমারখালী, খোকসা থেকে ছেড়ে আসা প্রায় সব বাসই যাত্রীভরা থাকছে। তবে যাওয়ার সময় কিছু বাস খালি যাচ্ছে। কারণ, এখন গ্রাম থেকে ফিরছেন মানুষজন।’ রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের ফেরার এই চাপ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এমআরআর/বিআরইউ