চেনা রূপে ফেরেনি ঢাকা, ফাঁকা সড়কেও বাসের ধীরগতি

ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনও চেনা রূপে ফেরেনি রাজধানী ঢাকা। অফিস-আদালত খুললেও নেই স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য। এর মধ্যেই স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই ফেরেননি কর্মস্থলে। টানা এ ছুটিতে রাজধানীর সড়কে নেই যানবাহনের চাপ কিংবা চিরচেনা সেই যানজট। তবু গণপরিবহন ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
বিজ্ঞাপন
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সাতদিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) খুলেছে অফিস-আদালত, ব্যাংক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্বজনদের সঙ্গে ঈদ কাটাতে গ্রামে যাওয়া মানুষজন তেমন না ফেরায় এখনও ঢাকার সড়কে গতি ফেরেনি। প্রাণ ফেরেনি পাড়া-মহল্লায়ও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
রাজধানীর মহাখালী, নতুনবাজার, রামপুরা, বাড্ডার মতো ব্যস্ততম সড়কে সব ধরনের যানবাহনের চাপই তুলনামূলক কম। ফাঁকা সড়কে অনেক গণপরিবহন দ্রুতগতিতে চললেও যাত্রী টানতে কিছু কিছু বাস চলছে ধীরগতিতে। এতে বিরক্তভাব দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।
উত্তরা থেকে রামপুরার উদ্দেশে রাইদা পরিবহনে ওঠেন শিক্ষার্থী সুমন। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও বাসটি ধীরগতিতে এসেছে বলে দাবি তার। তিনি বলেন, রামপুরায় একটি কাজ থাকায় উত্তরা থেকে রওনা হই। স্বাভাবিক সময়ে যানজটের কারণে একটু সময় লাগে। কিন্তু ঈদের ছুটিতে এ ফাঁকা সড়কেও তারা ৪০-৪৫ মিনিটের মতো সময় লাগিয়েছে। কারণ যাত্রী তোলার জন্য বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল বাস।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সরকারি অবকাশের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে অনেকেই ঈদের আগে বাড়ি গেছেন। এজন্য নির্দিষ্ট ছুটি শেষ হলেও কর্মব্যস্ত ঢাকায় এখনও পুরোপুরি আমেজ ফেরেনি। আগামী ২৯ মার্চ থেকে স্বাভাবিক রূপে ফিরবে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
এদিকে, পাড়া-মহল্লায়ও ফেরেনি স্বাভাবিক আমেজ। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় খাবার নিয়ে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। এ সুযোগে কিছু জায়গায় বেশি দামে খাবার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
কুড়িল বিশ্বরোড লাগোয়া একটি হোটেলে সকালের নাশতা খেতে আসেন জহিরুল ইসলাম। পরোটার দেরি দেখে ডিম-খিচুড়ি নেন তিনি। তার অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে এক প্লেট ডিম-খিচুড়ির দাম ৫০-৬০ টাকায় খেতে পারি। কিন্তু এখন ৭০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এছাড়া আশপাশের হোটেল বন্ধ থাকায় পরোটা-ভাজি খেতে দীর্ঘ লাইন ধরতে হয়।
বিজ্ঞাপন
অপরদিকে, আজও সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বহু মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। তাদের ভাষ্য, ঈদের আগে গ্রামে যেতে নানান ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই ছুটি পেয়ে এখন বাড়ি যাচ্ছেন তারা।
এমআরআর/জেডএস