বিজ্ঞাপন

সরকারি বয়ান ও মাঠের বাস্তবতায় তেল নিয়ে চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ

অ+
অ-
সরকারি বয়ান ও মাঠের বাস্তবতায় তেল নিয়ে চরম বিপাকে সাধারণ মানুষ

ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে ফেরার পথে আনন্দের রেশটুকু কেড়ে নিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে দেশের প্রান্তিক জনপদ– সর্বত্রই চাকা থমকে পড়েছে অকটেন ও পেট্রলের অভাবে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য চলছে হাহাকার, আর দীর্ঘ অপেক্ষায় ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ।

শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী, উত্তরা ও খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, তেলের অভাবে বেশির ভাগ পাম্পই দিনের বেলা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোর সামনে যানবাহনের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি অকটেন ও পেট্রল অধিকাংশ পাম্পেই মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরের পর কিছুটা তেল মিললেও পাম্পগুলো তা বিক্রি করছে রেশনিং করে। তবে ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

উত্তরা বিমানবন্দর এলাকার মেসার্স মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান জানান, ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তিনি বলেন, ‘এক দিন ৯ হাজার, পরের দিন ১৩ হাজার লিটার করে তেল দিচ্ছে ডিপো থেকে। এই সামান্য তেলে গ্রাহকের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। সকালে তেল দেওয়া শুরু করলে সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাকি সময় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’ সরকারের আশ্বাসের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সরকার পর্যাপ্ত তেল থাকার কথা বললেও আমাদের যা দেওয়া হয়, আমরা তো সেটুকুই বিক্রি করি। প্রায় এক মাস ধরে এই সংকট চলছে। কবে কাটবে জানি না।’

আজমপুর ও আবদুল্লাহপুর এলাকার চিত্র আরও ভয়াবহ। বিকেলের দিকে এসব এলাকার পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার দেখা গেছে। পাম্পের সামনে থাকা যানবাহনের সারি রাস্তার এক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আজমপুরের একটি পাম্পে টাঙানো হয়েছে ‘অকটেন ও পেট্রল নেই’ লেখা ব্যানার। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।

আজমপুরের কসমো ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মান্নান বলেন, ‘আমাদের মজুত যা ছিল, তা আগেই শেষ। সরবরাহকারী গাড়িগুলো সিরিয়াল পাচ্ছে না বলে আমাদের জানানো হয়েছে। তেল না থাকলে পাম্প খোলা রেখে কী করব?’

বিজ্ঞাপন

পাম্পে মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা অপেক্ষমাণ সাইফুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমি টঙ্গী থেকে এখানে তেল নিতে এসেছি। সেখানেও পাম্প বন্ধ থাকায় তেল পাইনি। এখন দেখি বিমানবন্দর এলাকার পাম্পে কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কি না।’

সরকারের আশ্বস্তবাণী আর পাম্পগুলোর এই রিক্ত দশা– দুয়ের চাপে পিষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষ এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন।

এএএম/বিআরইউ