ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অবস্থিত মুঘল আমলের স্থাপত্য মুসা খান মসজিদ সংস্কারের জন্য ২ লাখ ৩৫ হাজার ডলার অনুদান ঘোষণা করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে এই মসজিদ সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক সাবিনা আলম।
অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশনের আওতায় বাংলাদেশের ১৩টি প্রকল্পে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিচ্ছে আমেরিকা।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটি ৩৬ মাসে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় মসজিদটিতে আধুনিক ও উপযোগী সংরক্ষণপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরুদ্ধার কাজ করা হবে। একইসঙ্গে মূল মুঘল স্থাপত্যরীতি ও নির্মাণসামগ্রীর স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া বিস্তারিত স্থাপত্য নথি প্রস্তুত, ফটোরিয়ালিস্টিক থ্রিডি মডেল তৈরি, হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (এইচআইএ), দর্শনার্থীসুবিধা উন্নয়ন এবং আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মসজিদ সংরক্ষণ উদ্যোগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবং মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই প্রকল্প একদিকে যেমন একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, তেমনি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন একাডেমিক বিভাগের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি শুধুমাত্র একটি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি জ্ঞান ও প্রেরণার একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, আজ রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মুঘল যুগের মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন-এর একটি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে, যুক্তরাষ্ট্র মসজিদটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করবে এবং একটি স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তুলবে।
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশে গত ২৫ বছরের সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী করবে।
এনআই/জেডএস
