ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিজ্ঞাপন
ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত এই সম্পদের দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন ইতোমধ্যে মামলার সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সম্পদের হিসাব
বিজ্ঞাপন
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শফিকুল ইসলাম সেন্টুর নামে মোট ৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৪ টাকার ঋণ বা দায় রয়েছে। দায়-দেনা বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৩ টাকা। এছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ১ কোটি ২০ লাখ ১২ হাজার ৩২৫ টাকা। ফলে ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৫২ লাখ ২ হাজার ১৩৮ টাকা।
বিপরীতে, তার আয়ের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া গেছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৫১ হাজার ২৯০ টাকা। সেই হিসাবে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ বা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৮ টাকা।
আইনি ব্যবস্থা
বিজ্ঞাপন
দুদক জানায়, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন চেয়ে নথি উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক। সেই তালিকায় শফিকুল ইসলাম সেন্টুর নাম আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকার ক্লাব পাড়ায় জুয়ার বোর্ড এবং ২০১৬ সালে ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়া চক্রে প্রথম অত্যাধুনিক যন্ত্র এনে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু করেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
আরএম/এমএআর/
