বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের পটিয়া

নির্মাণাধীন সেতুর শিট পাইলের ফাঁদে ডুবছে ট্রলার, হুমকিতে লবণ শিল্প

অ+
অ-
নির্মাণাধীন সেতুর শিট পাইলের ফাঁদে ডুবছে ট্রলার, হুমকিতে লবণ শিল্প

চট্টগ্রামের পটিয়ার ইন্দ্রপুল এলাকায় লবণ শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। নির্মাণাধীন নাইখাইন সেতুর কাজে ব্যবহৃত লোহার শিট পাইল পানির নিচে থাকার কারণে এ হুমকি তৈরি হয়েছে। এক মাসে দুটি লবণবোঝাই ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নৌপথে কাঁচামাল পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পানির নিচে পিলার নির্মাণের সময় ব্যবহার করা শিট পাইল ঢালাই শেষে পুরোপুরি তুলে ফেলার কথা থাকলেও তা সম্পূর্ণ অপসারণ না করে কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে পানির নিচে রয়ে যাওয়া লোহার অংশের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একের পর এক নৌ দুর্ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে নৌপথে লবণের কাঁচামাল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইন্দ্রপুলের লবণ শিল্পে। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা সড়কপথে ট্রাকে করে কাঁচামাল আনছেন, এতে অতিরিক্ত ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি লবণ পানি পড়ে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে নির্মাণস্থলে লাল কাপড় টাঙিয়ে দায়সারা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

dhakapost

জানা গেছে, পটিয়া ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকায় অর্ধশতাধিক লবণ মিল রয়েছে। এসব মিলের অধিকাংশ কাঁচামাল কক্সবাজারের টেকনাফ, মহেশখালী, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও বাঁশখালী থেকে নৌপথে আনা হয়। সড়কপথের তুলনায় নৌপথে পরিবহন ব্যয় কম এবং নিরাপদ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁনখালী খাল ব্যবহার করে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের নাইখাইন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন উপজেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের অধীনে সেতু নির্মাণকাজে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এক মাসের ব্যবধানে দুটি ট্রলার ডুবে গেছে। সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ সেতুর পিলার নির্মাণে পানির নিচে থাকা লোহার শিট পাইলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে প্রায় ৮ লাখ টাকার লবণের কাঁচামাল নষ্ট হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসেও একই স্থানে আরেকটি ট্রলার দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারের মালিক আহমদ উল্লাহ বলেন, বাঁশখালী থেকে ১৮শ মণ লবণের কাঁচামাল নিয়ে পটিয়ার ইন্দ্রপুলে আসার পথে নাইখাইন সেতুর নিচে পানির ভেতরে থাকা লোহার শিট পাইলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার প্রায় ৭–৮ লাখ টাকার কাঁচামাল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ট্রলারেরও প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন।

পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক আল্লাই বলেন, চাঁনখালী খাল হয়ে নৌপথে কাঁচামাল আনা বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতিদিন ১৫–২০টি নৌকা বা ট্রলার আসত, সেখানে এখন মাত্র দুই-তিনটি ট্রলার আসছে, তাও জোয়ারের ওপর নির্ভর করে। এতে লবণ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড পটিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, ঘটনার পর সেখানে লাল চিহ্নিত কাপড় টাঙানো হয়েছে। সেতুটির কাজ গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, নাইখাইন এলাকায় সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রয়েল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এমরান হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের নির্মাণ সামগ্রীর কারণে ট্রলার ডুবেনি এবং ওই স্থানে নৌযান ডোবার মতো কোনো অবস্থা নেই।

এমআর/এসএম