ভুয়া ফেসবুক আইডি বন্ধ, নজরদারি বৃদ্ধি ও সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিক্যাব)।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সভায় এসব দাবি জানানো হয়।
টিক্যাব সভাপতি মুর্শিদুল হকের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন টিক্যাবের উপদেষ্টা ও জাতীয় সাহিত্য অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ছাবের আহাম্মদ (কাজী ছাব্বীর), বাস্তুহারা দল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন সিরাজী, সবুজ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা প্রমুখ।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা বলেন, ফেসবুক এখন নাগরিকদের গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত তথ্য ও মানসিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া প্রোফাইল, পরিচয় চুরি, সাইবার বুলিং, নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর পক্ষে প্রোপাগান্ডা, প্রতারণামূলক লিংক এবং এআই দিয়ে বানানো ‘ডিপ ফেইক’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দুর্বল মনিটরিং ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির অভাবে ব্যবহারকারীরা সহজেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সভায় যে ৫টি দাবি উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো-
১. বিভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ও ফটোকার্ডের আদলে ক্লোন পেজ তৈরি করে ভুয়া প্রোপাগান্ডামূলক ফটোকার্ড ছড়ানো ফেসবুক পেজ ও ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলো বন্ধ করতে হবে এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বিজ্ঞাপন
২. দেশের ৬০ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করায় এখানে অপরাধের হার বেশি। কিন্তু মোট ভিকটিমের ৮০ শতাংশই আইনি পদক্ষেপ নেন না। যারা অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ ইতিবাচক ফল পান। তাই ভিকটিমের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থাতেই অভিযোগ দাখিলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সরকারকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে অপরাধ দমনে নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে ফেসবুককে বাধ্য করতে হবে।
৪. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ ও গণমাধ্যমে প্রচারাভিযান চালাতে হবে।
৫. সাইবার বুলিং, কুরুচিপূর্ণ ও অসামাজিক অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি বন্ধ এবং ই-কমার্স পেজের প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধ দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স ও জাতীয় হটলাইন চালু করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও থানা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত টিম গঠন করে দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।
ওএফএ/এমএসএ
