‘বাবা, সবাই মুখে শুভ নববর্ষ নিচ্ছে। আমিও নেব’ —সাত বছর বয়সী মাইসা অন্যদের মুখে শুভ নববর্ষ ট্যাটু লেখানো দেখে নিজেও আঁকানোর বায়না ধরে।
বিজ্ঞাপন
মেয়ের আবদারে সায় দিলেন বাবা মোহাম্মদ সাব্বির। রমনা বটমূলের পাশেই রঙ-তুলি দিয়ে শুভ নববর্ষ লিখে দিচ্ছেন মৌসুমি শিল্পীরা। সেখানে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে কথা হয় সাব্বিরের। তিনি বলেন, কি করার বলেন মেয়ে বায়না ধরছে। সবাইকে নিয়ে বের হইছি, ভালোই লাগছে।
সাদা পাঞ্জাবি, রঙিন শাড়ি আর মুখে হাসি নিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বড়দের সঙ্গে শামিল হয়েছে শিশুরাও। তাদের আনন্দ যেন বড়দের চেয়ে বেশি। তাদের কাছে এ যেন ঈদের আনন্দ।

রমনা, শাহবাগ, টিএসসিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈশাখ উদযাপনে বের হওয়া বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। কেউ এসেছেন বাবার কাঁধে চড়ে, মায়ের কোলে চড়ে। ইট-কাঠ-পাথরের শহরে ঘর থেকে বের হতে পেরে শিশুরাও খুশি। সন্তানদের তৃপ্ত দেখে বাবা-মায়েরাও খুশি।
বিজ্ঞাপন
ছোট ছোট পায়ে বাাবা-মায়ের সঙ্গে টিএসসি এলাকায় হাঁটছিল শিশু আয়ান। ঘুরতে বের হয়েছো? —প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে আধো আধো বুলিতে আয়ানের উত্তর `বৈশাখ দেখতে আসছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসেছে। সেগুলোতে নানা ধরনের, নানা রঙের মুখোশসহ বাহারি খেলনা বিক্রি হচ্ছে। শিশুরা খেলনা দেখলে বায়না ধরছে, বাবা-মায়েরাও কিনে দিচ্ছেন।
এ ছাড়া, নগরদোলা, চরকি রাইডে মজেছে শিশুরা। চরকিতে চড়ে খুব খুশি শিশু মিহি। মিহি জানায়, চরকিতে চড়ে তার খুব ভালো লেগেছে।
বিজ্ঞাপন
বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ -কে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষের পূর্ণতা পায়।
এনআই/এসএম
