জলবায়ু পরিবর্তন : সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে শিশুরা

Dr. Md. Anowar Khasru Parvez

১৬ মে ২০২২, ০৯:১৮ এএম


জলবায়ু পরিবর্তন : সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে শিশুরা

ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা নেই দেশের শিশুদের। তবে দেশের শিশুরাই সর্বোচ্চ মূল্য দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে ঘর হারানো যে শিশুটি পরিবারের সঙ্গে উপকূলীয় গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে টিকে থাকার আশায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা সে কখনো শোনেনি। 

ইউনিসেফের শিশুদের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি সূচক বা চিলড্রেনস ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩ দেশের মধ্যে ১৫তম। বিভিন্ন গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অরক্ষিত দেশের একটি। জলবায়ু পরিবর্তন যেভাবে সামাজিক সমস্যাগুলোকে প্রকট করছে তাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

ইউনিসেফের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিধ্বংসী বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য পরিবেশগত বিপর্যয়গুলো বাংলাদেশে ১ কোটি ৯০ লাখের বেশি শিশুর জীবন ও ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যা দরিদ্র বাংলাদেশিরা তাদের ঘরবাড়ি, আত্মীয়-স্বজন ও নিজের সামাজিক গোষ্ঠীদের ফেলে অন্যত্র নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অনেকে ঢাকা ও অন্য বড় শহরগুলোতে যাচ্ছে, যেখানে শিশুদের বিপজ্জনক শ্রম বা বাল্যবিয়ের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৬০ লাখ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসী রয়েছে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। এছাড়া, উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী আরও ৪৫ লাখ শিশু নিয়মিত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় দ্বারা আক্রান্ত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাবের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অরক্ষিত দেশের একটি। জলবায়ু পরিবর্তন যেভাবে সামাজিক সমস্যাগুলোকে প্রকট করছে তাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা।

প্রতিটি সংকটে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়। জলবায়ু পরিবর্তনও তার ব্যতিক্রম নয়। যে সময়টাতে মানুষ বিকাশিত হয়, সেই বয়সটাই শিশু বয়স। নিঃসন্দেহে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বহুমুখী পরিবর্তনগুলো হচ্ছে, সেটা থেকে শিশুরাও রক্ষা পাবে না। সেজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শিশুদের বিষয় আলাদা করে বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

তাপমাত্রা বাড়লে মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া বেড়ে যাবে। বৃষ্টির সময়ে ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডার সময়ে বৃষ্টি হলে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যে রোগগুলো ছড়ায় সেগুলো ছড়াবে। মলমূত্র, স্পর্শের মাধ্যমে রোগবালাই ছড়াবে।

শিশুদের ঝুঁকি বড়দের চেয়ে বেশি। গরম ও অন্যান্য জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বড়দের তুলনায় তাদের কম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তাদের ডায়রিয়া ও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পুষ্টিহীনতায় ভোগারও ঝুঁকি থাকে এসব শিশুদের। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারগুলো যখন ঘরবাড়ি হারাচ্ছে, তখন সেই পরিবারের শিশুরা অর্থ উপার্জনের জন্য কোনো না কোনো কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে শিশুদের নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে বলে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দায়িত্ব নিতে না পেরে মেয়ে শিশুদের অনেক পরিবার দ্রুত বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।

সারা দেশে বিশটি জেলার শিশুরা সবচাইতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা ও ভোলায় জলবায়ু পরিবর্তন ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে। ঘন ঘন দুর্যোগের সম্মুখীন হচ্ছে এই জেলাগুলো। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। পানির লবণাক্ততাও একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপকূলের অনেক এলাকা এখন এই সমস্যায় আক্রান্ত।

তাদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে যায়। শোষণমূলক শিশুশ্রম, শিশু বিয়ে ও পাচারের ফাঁদে আটকা পড়ছে লাখ লাখ শিশু। এদের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে আছে শহরের বস্তিতে বাস করা শিশুরা। তাদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে, বাল্যবিয়ের শিকার, এমনকি যৌনকর্মীতেও পরিণত হচ্ছে।

প্রাকৃতিক এই প্রক্রিয়াকে একা কোনো দেশই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। বায়ু, মাটি, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। টক্সিক কেমিক্যালের ব্যবহার সহনীয় মাত্রায় রাখলে সেটা পরিবেশের ক্ষতি করবে না। এগুলো নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।

তাপমাত্রা বাড়লে মশাবাহিত ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া বেড়ে যাবে। বৃষ্টির সময়ে ঠাণ্ডা বা ঠাণ্ডার সময়ে বৃষ্টি হলে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে যে রোগগুলো ছড়ায় সেগুলো ছড়াবে। মলমূত্র, স্পর্শের মাধ্যমে রোগবালাই ছড়াবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষা প্রদানে বেশকিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অন্য অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবেশগত অবক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের প্রতিটি দেশের শিশু-কিশোরের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। 

জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে বিভিন্ন আলোচনা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। যখন শিশুরা একবার তাদের চারপাশে পরিবেশগত সমস্যাগুলোর অস্তিত্ব ও জরুরি দাবি সম্পর্কে জানতে পারে, তারা আরও সচেতন হবে, পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষায় কৌশলী হতে পারবে এবং বিশ্বের পরিবেশে রক্ষায় তারাও ভূমিকা নিতে পারবে।

বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহের একযোগে কাজের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা নিলে হয়তো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কম বয়সীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; অন্ধকার এই যাত্রায় নিরাপদ থাকছে না গর্ভের শিশুও। 

পরিবেশের ক্ষতি না করেও জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম সারির ভুক্তভোগী বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এক সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, স্বার্থের কারণে পরিবেশের ক্ষতিকারীরা দেশ ও মানুষের শত্রু। প্রকৃতির উপর যে অত্যাচার আমরা করছি, তারপরও প্রকৃতি আমাদের ওপর এখনো সদয় আছে, বিমুখ হয়নি।

জীববৈচিত্র্যেও আমরা সমৃদ্ধ। কিন্তু নিজের স্বার্থে যারা পরিবেশ প্রকৃতি ধ্বংস করে, বড় বড় শিল্পপতি হয়েও যারা পরিবেশের ক্ষতির দিকটি মাথায় রাখেন না, বরং ধ্বংস করে, যারা নদীকে গলা চিপে মারে, এরা দেশ, জাতি ও মানুষের শত্রু।

কয়েক বছরে সরকার দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর (ডিআরআর) ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবায়ু পরিবর্তন অভিঘাতে সবচেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন দেশগুলোর সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ এর চেয়ারম্যান। তিনি এই বিষয়ে সবসময় বিশ্বে সরব ভূমিকা নিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কৌশলপত্র প্রণয়নে বাংলাদেশ ছিল অগ্রণী এবং এসকল কারণে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। 

উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ বহু ভবন নির্মাণ করেছে যা ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে দুর্যোগে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও উপার্জন হারানোর হার ক্রমশ বাড়ছে।

সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে বার্ষিক বরাদ্দের ৬ থেকে ৭ শতাংশ ব্যয় করছে। বছরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। এই বিপুল বিনিয়োগের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে, আর্থিক পরিকল্পনা, তদারকি, রিপোর্টিং ও কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কম বয়সীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; অন্ধকার এই যাত্রায় নিরাপদ থাকছে না গর্ভের শিশুও।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে আছে। আর নারীদের মধ্যে গর্ভবতী নারীরা ঝুঁকিতে আছে সবচেয়ে বেশি। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, নারীরা বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। সে কারণেই তাদের ওপর তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

বায়ু দূষণের সঙ্গে জড়িত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কণা মায়ের ফুসফুসে পৌঁছাতে সক্ষম, যা তাদের ফুসফুসের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। এসব কণা প্ল্যাসেন্টায় পৌঁছে প্রদাহ তৈরি করে, যা গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস ও প্রি-অ্যাকলেমসিয়ার জন্য দায়ী। অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া গর্ভবতী নারীর মানসিক চাপ বাড়িয়ে ঝিঁমুনি থেকে শুরু করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জন্যও দায়ী হতে পারে।

সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামাল দেওয়া, সমাজের সব ধরনের মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিশুকেন্দ্রিক পরিকল্পনার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের কাজও করতে হবে।

এক্ষেত্রে মুখ্য বিবেচনার বিষয়গুলো হলো-
১. দুর্যোগের সময় ও পরবর্তীতে সেবা অব্যাহত রাখতে হবে।
২. দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এমন অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎস নিশ্চিতে বিনিয়োগ।
৩. নীতি নির্ধারণ ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে শিশুদের বিষয়াদি ও তাদের প্রয়োজন মেটানোর পদক্ষেপ অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এজেন্ডায় দুর্যোগকালে সব বয়সী শিশুরা যেসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তার সবই বিবেচনা করতে হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত প্রয়োজনগুলো যাতে মেটানো যায় সেই লক্ষ্যে উপযুক্ত কর্মসূচি প্রণয়নে তথ্যভিত্তিক (ডেটা সিস্টেমের) সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিশুদের ‘চিন্তাধারা’ যোগ করা জরুরি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্ব দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এখনই।

শিশুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসনের সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এ ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিরাপত্তা বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। 

মনুষ্যঘটিত কারণে শিল্প বিপ্লবের পর পৃথিবীর তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, আর তাতেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে, লবণাক্ততাসহ প্রাকৃতিক অনিয়ম বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব উপকূলীয় অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের উপর এর প্রভাব আরও মারাত্মক।

বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা সমূহে এক যোগে কাজের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের পাশাপাশি আমরা যদি সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, তবেই এই ব্যাপক দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব হবে আমাদের পক্ষে। বাঁচবে দেশ—সুরক্ষিত হবে নারী ও শিশুরা।

ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ ।। গবেষক ও অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
khasru73@juniv.edu

Link copied