বিজ্ঞাপন

জ্বালানি আধিপত্য ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ

অ+
অ-
জ্বালানি আধিপত্য ও অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ

বিশ্বরাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা আমাদের এক নির্মম সত্যের সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই বাস্তবতায় কোনো বিশেষ অঞ্চলে যুদ্ধ মানে শুধু সেই অঞ্চলের যুদ্ধ নয়-বরং এটা যেন গোটা বিশ্বের যুদ্ধে রূপ লাভ করে। বলা যতে পারে, যুদ্ধ কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; যুদ্ধের অভিঘাত বা প্রভাব ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে হাজার মাইল দূরের রাষ্ট্রের অর্থনীতি, সমাজ এবং সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায়।

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতকে ঘিরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিছক একটি আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা নয়; বরং এটি বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত দুর্বলতা এবং সাম্রাজ্যবাদী ভূরাজনীতির নির্মম রূপকে উন্মোচিত করছে।

একসময় সাম্রাজ্যবাদ মানে ছিল দৃশ্যমান দখল, ভূখণ্ড দখল, পতাকা স্থাপন, সৈন্য মোতায়েন, উপনিবেশ গঠন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ভারত শাসন করেছে সরাসরি, ফরাসিরা আফ্রিকার ভূখণ্ডকে মানচিত্রে ভাগ করেছে, আর আমেরিকা বিংশ শতাব্দীতে সামরিক ঘাঁটি ও জোট রাজনীতির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর সাম্রাজ্য রাজনীতি আর এতটা দৃশ্যমান নয়; এটি অনেক বেশি সূক্ষ্ম, জটিল এবং কাঠামোগত।

আজ সাম্রাজ্য কেবল ভূখণ্ড দখল করে না, বরং জ্বালানি, প্রযুক্তি, সমুদ্রপথ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রবাহ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক বিশ্লেষণগুলো দেখাচ্ছে, বিশ্বের ক্ষমতার কেন্দ্র এখন দৃশ্যমান আধিপত্য থেকে সরে গিয়ে ‘চোকপয়েন্ট (chokepoint)’ ও অবকাঠামোগত নিয়ন্ত্রণের দিকে ঝুঁকছে। হরমুজ, সুয়েজ, বাব-এল-মান্দেব, মালাক্কা-এই সরু পথগুলোই হয়ে উঠেছে নতুন সাম্রাজ্যের স্নায়ুতন্ত্র।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্য রাজনীতির প্রথম স্তম্ভ হলো জ্বালানি আধিপত্য। মধ্যপ্রাচ্যের তেল, রাশিয়ার গ্যাস, আফ্রিকার খনিজ এবং দক্ষিণ আমেরিকার লিথিয়াম-এসব শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার অস্ত্র। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো আজ সরাসরি দখলের বদলে এমন কৌশল নেয়, যাতে জ্বালানি প্রবাহের নলকূপ তাদের কৌশলগত প্রভাবের মধ্যে থাকে।

হরমুজ প্রণালী, যেখানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও বড় অংশের এলএনজি প্রবাহিত হয়, তার সামান্য অস্থিরতাই পুরো বিশ্বের বাজারকে কাঁপিয়ে দেয়। এর ফলে বোঝা যায়, সাম্রাজ্য আজ শুধু সেনাবাহিনীর শক্তিতে নয়, কোন সমুদ্রপথ কার নিয়ন্ত্রণে, সেই বাস্তবতায়ও নির্ধারিত হয়।

দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, সুইফট, ডলারভিত্তিক বাণিজ্য, নিষেধাজ্ঞা, সার্বভৌম ঋণ-এসব আধুনিক যুগের কামান ও যুদ্ধজাহাজ। কোনো রাষ্ট্র যদি নীতিগতভাবে বড় শক্তির বিপরীতে যায়, তার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ নাও হতে পারে। কিন্তু তার ব্যাংকিং চ্যানেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ডলার লেনদেন আটকে যেতে পারে, ঋণের কিস্তি চাপে অর্থনীতি স্থবির হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ আধুনিক সাম্রাজ্যবাদ ‘শাসন’ করে বাজার, মুদ্রা এবং ঋণের মাধ্যমে। অস্ত্রের গর্জনের বদলে এখানে শোনা যায় বন্ড মার্কেট, সুদের হার ও রিজার্ভ সংকটের নীরব শব্দ।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় স্তম্ভ হলো প্রযুক্তি ও তথ্য সাম্রাজ্যবাদ। আজকের পৃথিবীতে ডেটা নতুন তেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক, ক্লাউড অবকাঠামো, সাইবার নজরদারি-এসবের নিয়ন্ত্রণ এখন নতুন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন কেবল সামরিক নয়; এটি chip supply chain, AI governance, standards-setting এবং ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের লড়াই। সাম্রাজ্য আজ তথ্যপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের আচরণ, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা পর্যন্ত প্রভাবিত করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় এটিকে ‘অস্ত্রায়িত আন্তঃনির্ভরশীলতা’ বলা হচ্ছে-পারস্পরিক নির্ভরতা নিজেই এক ধরনের কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

চতুর্থ স্তম্ভ হলো সমুদ্রপথ ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ। আধুনিক বিশ্বায়ন দেখতে যত বিস্তৃত, বাস্তবে তা কয়েকটি সরু করিডোরের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হরমুজ, সুয়েজ, মালাক্কা, রেড সি-এই চোকপয়েন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ মানে বিশ্ববাণিজ্যের গলা চেপে ধরার ক্ষমতা।

বড় শক্তিগুলো তাই সরাসরি ভূখণ্ডের বদলে বন্দর, দ্বীপ, নৌঘাঁটি, সাবমেরিন কেবলের অবতরণকেন্দ্র, রেল করিডোর, ড্রাই পোর্ট- এসবের ওপর প্রভাব বাড়াচ্ছে। আফ্রিকার শিং অঞ্চল, ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ চীন সাগর-সবখানে এই নীরব সাম্রাজ্য দাবার খেলা চলছে।

বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্য রাজনীতির প্রথম স্তম্ভ হলো জ্বালানি আধিপত্য। মধ্যপ্রাচ্যের তেল, রাশিয়ার গ্যাস, আফ্রিকার খনিজ এবং দক্ষিণ আমেরিকার লিথিয়াম-এসব শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো ভূরাজনৈতিক ক্ষমতার অস্ত্র।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নতুন সাম্রাজ্য রাজনীতি আগের মতো এককেন্দ্রিক নয়। বিশ্ব এখন এক ধরনের খণ্ডিত বহুমেরুতাতে প্রবেশ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শক্তিশালী। কিন্তু চীন প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে, রাশিয়া নিরাপত্তা ও জ্বালানিতে, ইউরোপ নর্মেটিভ ক্ষমতায়, ভারত ভারত মহাসাগরীয় নিরাপত্তায়, এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজ নিজ পরিসরে প্রভাব বিস্তার করছে।

অর্থাৎ সাম্রাজ্য এখন একটি মাত্র রাজধানী থেকে পরিচালিত হয় না; বরং বহু শক্তিকেন্দ্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সহযোগিতা, প্রক্সি যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ব্লক এবং প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের সংঘাতে নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বের সাম্রাজ্য রাজনীতির চিত্র আর মানচিত্রে আঁকা যায় না; এটি আঁকা থাকে তেলের পাইপলাইনে, চিপ কারখানায়, সমুদ্রপথের সংকীর্ণ গলিতে, আর আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের অদৃশ্য তারে। আজকের সাম্রাজ্য পতাকা উড়ায় না-এটি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে, তেল, ডলার, ডেটা, প্রযুক্তি, খাদ্য ও বাণিজ্যের প্রবাহ।

হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত নৌপথ। এই সরু জলপথটি বিশ্বের ব্যস্ততম তেল শিপিং চ্যানেল। যার মধ্য দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক পঞ্চমাংশ বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস শিপিং করা হয়। কিন্তু একে কেবল জ্বালানি পরিবহনের উৎস হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

হরমুজ প্রণালী একই সঙ্গে সার, খাদ্য এবং কৃষি সরঞ্জাম পরিবহনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এই জলপথে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব কেবল পেট্রলপাম্পেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং এর ধাক্কা লাগে শস্যের বাজারে, জাহাজ ভাড়ায় এবং বিমার কিস্তিতে। যার চূড়ান্ত পরিণতি দেখা দেয় সাধারণ মানুষের ডাইনিং টেবিলে।

ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ আর এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্টি হওয়া সামরিক উত্তেজনা অতি দ্রুত অর্থনৈতিক সংকটের রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

সম্প্রতি, পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে।

এখানে সামান্য বিঘ্নও বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, আর সেই অস্থিরতার ঢেউ এসে প্রথম আঘাত হানে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর। সাম্প্রতিক জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্লেষণগুলোও দেখাচ্ছে, হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে দক্ষিণ এশিয়ার এলএনজি-নির্ভর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে।

বাংলাদেশের জন্য এই সংকটের অর্থ কেবল তেলের দাম বৃদ্ধি নয়; এটি বিদ্যুৎ, শিল্প, কৃষি, খাদ্য এবং বৈদেশিক মুদ্রা-সবকিছুর ওপর একযোগে চাপ তৈরি করবে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে বাংলাদেশ ক্রমশ আমদানিকৃত এলএনজি-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে, যার বড় অংশ আসে কাতার থেকে, আর সেই কাতারি এলএনজি-এর প্রধান রুটই হরমুজ।

যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হবে, লোডশেডিং বাড়বে, শিল্পকারখানায় গ্যাস রেশনিং দেখা দেবে এবং তৈরি পোশাক থেকে শুরু করে সিরামিক, স্টিল ও সার কারখানা পর্যন্ত উৎপাদন ব্যাহত হবে।

এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎসও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। একটি জাহাজ যখন হরমুজে আটকে যায়, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার উৎপাদন লাইনে, সার কারখানার বয়লারে, কিংবা কোনো কৃষকের সেচপাম্পে।

আধুনিক বিশ্বের সাম্রাজ্য রাজনীতির চিত্র আর মানচিত্রে আঁকা যায় না; এটি আঁকা থাকে তেলের পাইপলাইনে, চিপ কারখানায়, সমুদ্রপথের সংকীর্ণ গলিতে, আর আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের অদৃশ্য তারে।

এই সংকটের আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো মূল্যস্ফীতি। জ্বালানি মূল্য বেড়ে গেলে তার প্রভাব কখনোই শুধু পাম্পের ডিজেল বা বিদ্যুৎ বিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ে, কৃষিতে সেচ খরচ বাড়ে, খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণ ব্যয় বৃদ্ধি পায়, এবং শেষ পর্যন্ত চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, সবজি-সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে শুরু করে।

মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ, যারা আগে থেকেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ বহন করছে, তাদের জন্য এটি নতুন করে জীবনযাত্রার সংকট তৈরি করবে। হরমুজের উত্তেজনা তাই বাংলাদেশের বাজারে খাদ্য মূল্যস্ফীতির এক নতুন ঢেউ ডেকে আনতে পারে, যার সামাজিক অভিঘাত রাজনৈতিক অস্থিরতা পর্যন্ত গড়াতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ভয়াবহ চাপ। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণ পরিশোধের বাড়তি দায়ের মধ্যে রয়েছে। যদি একই পরিমাণ জ্বালানি কিনতে আগের চেয়ে অনেক বেশি ডলার ব্যয় করতে হয়, তবে রিজার্ভ দ্রুত কমে যাবে, টাকার মান দুর্বল হবে এবং আমদানি ব্যয় আরও বাড়বে।

এই দুষ্টচক্র একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, অন্যদিকে উন্নয়ন প্রকল্প ও সামাজিক ব্যয় সংকুচিত করতে সরকারকে বাধ্য করতে পারে। অর্থাৎ হরমুজের সম্ভাব্য বন্ধ হওয়া শুধু একটি জ্বালানি সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি আঘাত।

কাজেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির এক কঠিন পরীক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের একটি সরু জলপথে যদি আগুন জ্বলে ওঠে, তার ধোঁয়া সবচেয়ে আগে দেখা যাবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে, কৃষকের সেচযন্ত্রে, শিল্পাঞ্চলের চিমনিতে এবং সাধারণ মানুষের বাজারের ব্যাগে।

এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়- সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার ঝুঁকি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো কৌশলগত স্বনির্ভরতা, নীতিগত দূরদর্শিতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার কেন্দ্রে নিয়ে আসা।

ড. সুলতান মাহমুদ রানা : অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
sultanmahmud.rana@gmail.com