প্রমাণ থাকার পরও অস্বীকার, উল্টো গণমাধ্যমকে ক্ষমা চাইতে বললেন মামুনুল হক

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তার দাবি, তিনি কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাননি, বরং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করছিলেন, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা পোস্টে প্রকাশিত ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ইসির সামনেই ভোট চাইলেন মামুনুল হক’ শিরোনামের সংবাদটি তথ্যগতভাবে সঠিক নয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, মাওলানা মামুনুল হক কোনো সংসদীয় আসনের প্রার্থী হিসেবে বা কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেননি। সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি কেবলমাত্র গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালিয়েছেন। গণভোটের প্রচারণা আর সংসদীয় নির্বাচনের প্রচারণা এক নয়। এটি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধির আওতায় কোনো শাস্তিযোগ্য অপরাধের মধ্যে পড়ে না।
খেলাফত মজলিস মনে করে, আইনি ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তাই তারা ওই সংবাদের বিভ্রান্তিকর অংশ সংশোধন এবং এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা-১৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মামুনুল হককে শোকজ করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছিল, ১৩ জানুয়ারি বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে লিফলেট বিতরণ করে তিনি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১২(১) লঙ্ঘন করেছেন। বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের (১২ ফেব্রুয়ারি) তিন সপ্তাহ আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৭ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে মামুনুল হককে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দাখিল করতে বলেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
গতকাল ১৩ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সামনে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মামুনুল হক প্রচারণা চালান। এসময় সাধারণ জনগণ যাদের সামনে পেয়েছেন, তাদেরই সঙ্গেই হাত মেলানোসহ দোয়া ও ভোট চাইতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে সবাইকে নিজ হাতে লিফলেটও বিতরণ করতে দেখা গেছে। লিফলেট বিতরণের ভিডিও ঢাকা পোস্টের কাছে সংরক্ষিত আছে।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি ৩ ও ১৮ এর আলোকে ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিন এর তিন সপ্তাহ সময়ের পূর্বে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করা আচরণবিধি লঙ্ঘন। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের যে আইন ও বিধি প্রযোজ্য হবে, সেই একই আইন ও বিধি গণভোটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ প্রতীক বরাদ্দের আগে একজন প্রার্থী কোনপ্রকার প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলেই প্রতীয়মান হয়।
এসআর/এসএম