ঢাকায় প্রচারণায় দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াত প্রার্থীরা

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। দিন-রাত পাড়া মহল্লা, অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। নিজ-নিজ সংসদীয় এলাকার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন তারা। নিজ দলের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতেও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
ঢাকা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন দিনভর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি এলাকার গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকাকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ব্যত্যয় করেন।
অন্যদিকে ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ধোলাইপাড় সার্কেল অফিসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগে সব প্রার্থীদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠকে যোগ দেন। পরে বিকেলে ডেমরা বাজারে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মিছিল শেষে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান পাটুয়াটুলি মসজিদে জোহরের নামাজ শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করেন। বিকেলে কোতয়ালীর বাদামতলী মদিনা ফল মার্কেটের সামনে প্রচারণা পূর্বক অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ফুটপাত কিংবা শপিং মলে ব্যবসা করতে কাউকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। পরে বাহাদুর শাহ পার্ক, সোহরাওয়ার্দী কলেজ গেট ও সূত্রাপুর এলাকায় তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ করেন।
এ সময় তিনি স্থানীয়দের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচিত হলে আজকের মতো আগামীতেও জনগণের মধ্যেই থাকবেন।
জনগণের যেকোনো সমস্যা নিজের সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার সব সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।
ঢাকা-৭ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ দুপুরে উর্দু রোড, ডিসি রায় রোড, আরমানিটোলা, বাবু বাজার, ইসলামপুর এলাকায় গণসংযোগ অভিযান পরিচালনা করেন। বিকেলে বাদামতলী, ইসলামপুরের জব্বু খানম মসজিদ ও নবরায় লেনে গণসংযোগ শেষে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পুরান ঢাকা হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যের নগরী। এখানকার ব্যবসায়ীরা বিগত ৫৪ বছর ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক শোষিত হয়েছে। যখন যারা ক্ষমতায় বসেছে তখন তারা ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করেছে। তিনি নির্বাচিত হলে আগামীতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেউ এক টাকাও চাঁদা নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
তিনি জানান, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দিতেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ হবে জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ঢাকা-১০ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার সকালে ধানমন্ডি লেক পাড়, কামরাঙ্গীচর এলাকায় গণসংযোগ করেন। বিকেলে হাজারীবাগ টালী অফিস রোডে গণসংযোগ শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন। পরে হাজারীবাগ শেরে বাংলা রোডে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে একটি সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় । ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ থেকে বৈষম্যের শেকল ভেঙে দিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকা হবে সম্প্রীতির বাংলাদেশের এক মডেল শহর।
এরপর তিনি লেদার কলেজ স্টাফ কোয়ার্টার মসজিদ সংলগ্ন একটি হলরুমে রিকশা শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে নির্বাচিত হলে রিকশা চালকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঢাকা-১০ সংসদীয় এলাকায় একজন বাড়িওয়ালা ও একজন রিকশা চালক নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার অধিকারী হবেন।
আগামী সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে তিনি রিকশা শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান ।
জেইউ/এমজে