অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করে মোট ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডকে ১৩ লাখ এবং কে বেকারিকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মহানগরের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে পিউরিয়া ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডে মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, মজুদ ও প্রক্রিয়াকরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। রান্নাঘর ও কাঁচামাল সংরক্ষণাগারে তেলাপোকা ও ইঁদুরের প্রাদুর্ভাব, স্যাঁতসেঁতে ও তৈলাক্ত ফ্লোর, পচা ও পোকাসম্পন্ন ডিম মজুদ, ফ্রিজারে রক্ত ও মাংসের উচ্ছিষ্টাংশ জমাট বাঁধা, মিষ্টিতে পোকা-মাছি পড়া এবং মাওয়াতে ক্ষুদ্র অ্যালুমিনিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এছাড়া খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মানা, অসম্পূর্ণ লেবেলিং এবং অগ্রিম উৎপাদনের তারিখ উল্লেখসহ নানা অনিয়মও ধরা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৫, ২৮, ৩২(ক), ৩২(খ) ও ৩৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এ সময় প্রায় ১২০ কেজি খাবার অনুপযোগী মিষ্টিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া প্রায় ৫০ ক্যারেট বেকারি পণ্য ব্রেড, বিস্কুট, টোস্ট ও সেমাই মেয়াদে কারচুপির কারণে জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো জামিয়া মাদানিয়া শোলকবহর মাদ্রাসা ও আল হুমায়রা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার এতিম শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
একই দিনে খুলশীর জাকির হোসেন রোড এলাকায় অবস্থিত কে বেকারিতেও সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, দধি প্রস্তুতের সময় নোংরা পাত্র ব্যবহার, মেয়াদবিহীন রং দিয়ে খাদ্য প্রস্তুত, খাবার অনুপযোগী স্পিড ক্যান সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য মজুদসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৯ ধারায় কে বেকারির মালিকপক্ষকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এমআর/এমএসএ