বিজ্ঞাপন

সাতকানিয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের পর মারধরের অভিযোগ

অ+
অ-
সাতকানিয়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের পর মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণ ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিকাশের মাধ্যমেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভুক্তভোগী আবদুল করিম এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আবদুল করিম সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক। তার দাবি, ডলু খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ দেওয়ার জেরে তার ওপর এই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে কেরানীহাট সিটি সেন্টারের সামনে থেকে অটোরিকশায় করে সি-ওয়ার্ল্ড রেস্টুরেন্টের উদ্দেশে রওনা দেন আবদুল করিম। পথে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি একই অটোরিকশায় উঠে পাশে বসে। সি-ওয়ার্ল্ডের সামনে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি ধারালো ছুরি বের করে তাকে ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করে। এরপর তাকে কেরানীহাট গরুর বাজারের উত্তর পাশে রেললাইনের অন্ধকার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও ১০-১২ জন তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর করে।

বিজ্ঞাপন

হামলাকারীরা আবদুল করিমকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, নগদ ৮০০ টাকা ও একটি পাওয়ার ব্যাংক ছিনিয়ে নেয়। এরপর ভয় দেখিয়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জেনে নিয়ে ১৩ হাজার ৯২০ টাকা অন্য একটি নম্বরে সরিয়ে নেয় তারা। আরও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিলেও স্বজনদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে না পারায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

আবদুল করিম বলেন, ‘অভিযুক্তরা আমাকে জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে এবং তা মোবাইলে ভিডিও করে রাখে। ঘটনা প্রকাশ করলে বা আইনের আশ্রয় নিলে আমাকে হত্যা ও ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বালু উত্তোলনের অভিযোগ দেওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমার বিশ্বাস। যার বিকাশ নম্বরে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাকে আমি ঘটনাস্থলে দেখেছি।’

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় জানান, ‘ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

এমআর/বিআরইউ