বিজ্ঞাপন

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই

অ+
অ-
সংবিধানের দোহাই আর নয়, আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি বরং সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে যে বিষয়গুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেসব বিষয়ের পরিবর্তন চাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না, ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই আমরা। ক্ষমতার গরম দিয়ে কেউ যেন পার না পায়, সেই বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলার সময় এ কথা তুলে ধরেন তিনি।

জামায়াতের ওপর ১৭ বছর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সংসদের সবাই মজলুম। আগামীর বাংলাদেশ এমন চাই যে, আইন এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না। ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই আমরা। সংবিধানের যেসব সুযোগ ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল, সেগুলো ফেলে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ চাই।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ কলিজার অংশ। আমরা আদেশ, অভ্যুত্থান, সনদ বাস্তবায়ন মানি। আমাদের পক্ষ থেকে অমান্যের কিছু নেই। সবাই হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলেছি। জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন—কোনোটাকেই আমরা অস্বীকার করতে পারি না।

এ ছাড়া, কোনো বিতর্কছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটামাত্র দল, যে দলের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ওখান থেকেই ফ্যাসিজমের জন্ম। ক্ষমতায় না এসেই তারা কি করবে ক্ষমতায় আসলে সেদিন অগ্রিম জাতিকে জানিয়ে দিয়েছিল। সারাদেশে দুই দিনে ৫৪ জন মানুষ শুধু জামায়াতে ইসলামী না বিএনপিরও সেই সময় নির্মমভাবে তাদেরকে খুন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি আমরা সবাই সবকিছু মানি তাহলে যে মানার ভিত্তিতে আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির দুটো নির্বাচন করলাম এর আগে তো আমরা কেউ বলি নাই যে আমরা সংসদ নির্বাচন মানি না অথবা আমরা গণভোট মানি না।

বিজ্ঞাপন

এ সময় মব কালচার সৃষ্টির দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, যেই দলটির ওপর ইতিহাসের সবচাইতে জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট আমলে মব করে রাস্তায় আদালত বসিয়ে যে দলের এক এক করে শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ঠান্ডা মাথায় জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকারে পরিণত করা হয়েছে যে দলের হাজারো কর্মীকে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ে ঠেলে দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। একটা মাত্র দল যে দলের নিবন্ধন, প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করার জন্য ডাইভার্ট করার জন্য এই দলটাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই দলের ওপর এই ধরনের অপবাদ দেওয়া এই সংসদের জন্য একটা লজ্জার ব্যাপার।

সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বিরোধী দলের কেউ কখনো বলে নাই দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা এই সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছি। যাতে একটি ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েম হয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত একটা দেশ, সমাজ, শাসন পাই সেজন্য। আমরা সংবিধানবিরোধী নই। সংবিধানের ওই জায়গাগুলো আমরা চাই না, যেই জায়গা গত ৫৪ বছরে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে দফায় দফায়। ওই জায়গাগুলার সংস্কার চাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাচ্ছি আগামীর একটা বাংলাদেশ এমন হোক যেই বাংলাদেশে আর কোনো আইন এবং সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই আমরা। এইজন্যই আমরা বলি, একটা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই। নতুন বাংলাদেশের মানে এই না যে, এর ভৌগোলিক সীমারেখা বদলে যাবে, ফ্ল্যাগ বদলে যাবে, সবকিছু বদলে যাবে, নো। যে সমস্ত আইন সংবিধানের, যে সমস্ত সুযোগগুলো ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছিল আমরা ওগুলা ফেলে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ চাই। আমরা চাই একজন গ্রামের প্রান্তিক মানুষ যারা আছেন, গরীব-দুঃখী থেকে শুরু করে একেবারে রাষ্ট্রপতি ভবনে যিনি থাকবেন, তাদের কেউ কোনো বৈষম্যের শিকার হবে না। তারা সবাই সাম্যের ভিত্তিতে তাদের ন্যায্য পাওনাটা পাবেন। নাগরিক হিসেবে আবার কোনো পদ-পদবী দলীয় পরিচয় ক্ষমতার গরম কোনো কিছুর বলে কোনো অপরাধ করেও যেন কেউ পার না পায়, সেই বাংলাদেশটা আমরা চাই।

জেইউ/এএমকে