মালয়েশিয়ায় থার্মাল ড্রোন দিয়ে অভিযান, অর্ধশতাশিক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

মালয়েশিয়ার চেরাসে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে এবার অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করল দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। এ সময় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ ২১৮ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে বৃহস্পতিবার রাতে তামান ইমাস এলাকায় এই বিশাল অভিযানে পরিচালনা করে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ।
শুক্রবার মালয়েশিয়ান গণমাধ্যম বার্নামা নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযানে ভবনের ছাদে বা বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করতে অত্যাধুনিক ‘থার্মাল ড্রোন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ সময় ভবনের ছাদে কিংবা অন্ধকার জায়গায় লুকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।
ইমিগ্রেশন বিভাগের (অপারেশন) ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় ১৫ জন বিদেশি নাগরিককে ধরা সম্ভব হয়েছে, যারা গ্রেপ্তার এড়াতে ভবনের ছাদে লুকিয়ে ছিলেন।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবনে থাকা ১ হাজার ৮৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৫৩ বছর বয়সী ২১৮ জনকে ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ৫২ জন নারী। এদের মধ্যে মিয়ানমারের ৭৮ জন, বাংলাদেশের ৫৬ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৪৪ জন, নাইজেরিয়ার ১২ জন, নেপালের ১০ জন, ভারতের ৫ জন, শ্রীলঙ্কার ৪ জন এবং অন্যান্য দেশের ৯ জন নাগরিক রয়েছেন।
আটককৃতদের দেশটির সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। বৈধ নথিপত্র না থাকা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং ভুয়া কার্ড ব্যবহারের মতো অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে ২৭৯ জন ইমিগ্রেশন অফিসার এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের ১০ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
এমজে
