লন্ডনে কবি রহমত আলীর দুটি কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা

লন্ডনের নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝে এক পশলা কবিতা আর সাহিত্যের আড্ডায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দর্পণ মিডিয়া সেন্টার। কবি ও সাংবাদিক মুহাম্মদ রহমত আলীর ‘বিলাতের বৃষ্টি’ ও ‘আমি যখন চলে যাব’– এই দুটি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে হয়েছে এক প্রাণবন্ত প্রকাশনা উৎসব ও আলোচনা সভা।
প্রবাস জীবনের না বলা বেদনা আর শেকড়ের টান যেন মূর্ত হয়ে উঠেছিল সেখানে উপস্থিত বিলেতের লেখক ও সাহিত্যিকদের আলোচনায়।
কবিতায় প্রবাসের দলিল পূর্ব লন্ডনের দর্পণ মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দর্পণ বুক ক্লাবের ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কবি আসমা মতিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মুহাম্মদ রহমত আলীর কবিতায় প্রবাসজীবনের বেদনা, শেকড়ের টান, স্মৃতি, প্রেম ও আত্মঅনুসন্ধানের এক গভীর ও সংবেদনশীল প্রতিফলন ফুটে উঠেছে। তার এই কাজ সমকালীন প্রবাসী বাংলা সাহিত্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন।
দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত রহমত আলীর বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার কথা টেনে বক্তারা তাকে এখন নিজস্ব আত্মজীবনী লেখায় মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
আলোচনায় বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে গ্রন্থ দুটির ওপর আলোচনায় অংশ নেন ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ডক্টর আনসার আহমদ উল্লাহ, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আহাদ চৌধুরী বাবু এবং ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান।
এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন উপস্থাপক ড. কামরুল হাসান, অধ্যাপক মিসবাহ কামাল, সাংবাদিক মিছবাহ জামাল, কবি ড. আজিজুল আম্বিয়া, কমিউনিটি নেতা আবুল হোসেন, সাওদা মুমিন, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা আব্দুল মুকিত, আবু ছবুর, মায়েরা তাইবা, আবছার হোসেন ও শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুভবের পঙ্ক্তিমালা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কবি মুহাম্মদ রহমত আলী বলেন, ‘প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা, না বলা কষ্ট আর না ফুরানো স্মৃতিই আমার কবিতার প্রধান উপাদান। এই দুটি কাব্যগ্রন্থ মূলত প্রবাসে বসবাসরত মানুষের অনুভূতির দলিল। পাঠকদের ভালোবাসা ও সহানুভূতিই আমাকে লেখালেখিতে অনুপ্রাণিত করে।’
সভাপতির বক্তব্যে কবি আসমা মতিন বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চা টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত জরুরি, যা নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে।
আবৃত্তি, গান আর কাব্যগ্রন্থ দুটির শৈল্পিক মূল্যায়নে পুরো আয়োজনটি সাহিত্যমোদীদের কাছে এক আনন্দমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বিআরইউ