দেশীয় আবহে সিডনিতে প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন

অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম উম্মাহর মধ্যেও আনন্দের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। উৎসাহ-উদ্দীপনা ও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ঈদুল ফিতর উৎযাপিত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা শেষে আজ (শনিবার) পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরই অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশখ্যাত লাকাম্বায় বেজে ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ।’ এরপর ভোরের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের নামাজে অংশ নেন মুসল্লিরা। সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্যে আলাদা জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এখানে ঈদের নামাজ পরিণত হয় বহুজাতিক মুসলিমদের মিলনমেলায়, প্রিয় মানুষদের সঙ্গী করে সেখানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। অস্ট্রেলিয়ায় গতকালও অনেকে ঈদ উদযাপন করেছেন। তবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল মুসল্লিরা এই উৎসবে মেতেছেন আজ। বাংলাদেশের মতো ঈদের নামাজের জন্য এখানে আলাদা কোনো ঈদগাহ নেই। তাই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদ, মাসাল্লা, পার্ক, কমিউনিটি হল ও স্কুলে ঈদের নামাজ আদায় করেন। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমনও দেখা গেছে, একই স্থানে কয়েকটি ঈদের জামাত হয়েছে।

সুন্দর রৌদ্রোজ্জ্বল শীতল সকালে দেশটিতে নামাজ আদায় করতে সকাল থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টার লাকাম্বা, প্যারি পার্ক, ব্যাংকস টাউন, এবান, লিডকম, লাকাম্বার দারুল উলুম কেন্দ্রীয় মসজিদ, রকডেল মসজিদ, লিভারপুল, মিন্টু, গ্রানভিল, গ্রিন-ভ্যালি, ম্যাসকট, মাউন্ট ডুরিথ, কাম্পবেলটাউন, গ্লেনফিল্ড, ম্যাকুরিফিল্ড, ইঙ্গেলবার্ন, সেফটন, লিউমিয়াহ, ইসলামিক সেন্টার, কনভেনশন হল ও পার্শ্ববর্তী মসজিদগুলোতে।
বিজ্ঞাপন
সিডনির লাকাম্বা এলাকার দাওয়াত ইসলামী অস্ট্রেলিয়ার ফয়জান-ই-মদিনা ইসলামিক সেন্টারে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া অন্যান্য স্থানেও ঈদের জামাত হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে ঈদ হওয়ায় মানুষ আরও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপনের সুযোগ পেয়েছে। যার ফলস্বরূপ প্রতিটি ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে।
ঈদে একে অন্যের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। দেশীয় আবহে তারা ঈদ উপভোগের চেষ্টা করছেন। ঈদের নতুন পোশাক, মেহেদি রাঙা হাত ও দেশীয় সাজ ফুটিয়ে তুলছেন নারীরা। প্রিয়জনদের বাসায় দাওয়াতের পর্বেও দেখা যাচ্ছে সরগরম উপস্থিতি। আড্ডা আর রকমারি খাবারে অ্যাপায়নেও আছে দেশীয় ঢং। যদিও দেশে ঈদ উদযাপন বেশ উপভোগ্য মনে করেন বেশিরভাগ প্রবাসী। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ঈদের আবহও সেই অর্থে কম নয়।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১০ লাখ মুসলমান বসবাস করেন। তবুও নির্বিঘ্নে ঈদ আনন্দে মেতেছেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা। ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ঈদের নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। জামাত শেষে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আনন্দ ভাগাভাগি করেন সর্বস্তরের মানুষ।
বিজ্ঞাপন
ইদ্রিছ আলী, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে