মাকরুহ কাকে বলে, এর কারণে কী ধরনের গুনাহ হয়?

Dhaka Post Desk

ধর্ম ডেস্ক

০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৫৫ পিএম


মাকরুহ কাকে বলে, এর কারণে কী ধরনের গুনাহ হয়?

প্রতীকী ছবি

শরিয়তের আদেশ-নিষেধ ও বিধানাবলি স্তরভেদে বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। কোরআন-হাদিসের বর্ণনায় ইসলামী সব বিধানের স্তরবিন্যাস সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও উম্মতের ফকিহ ও আইনবিদরা কোরআন-সুন্নাহে গবেষণা করে বিধানাবলিকে বিভিন্ন স্তরে রূপ দিয়েছেন এবং সেগুলো সুবিন্যস্ত করেছেন। ইবাদত কবুল ও সঠিকভাবে পালনের জন্য এই সবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। 

হজরত নুমান বিন বশির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- কে বলতে শুনেছি (এ কথা বলে তিনি আঙ্গুল দিয়ে নিজ কানের দিকে ইঙ্গিত করেন; অর্থাৎ নিজ কানে শুনেছি।)- ‘নিশ্চয় হালাল সুস্পষ্ট এবং হারাম সুস্পষ্ট; এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে অস্পষ্ট বিষয়াবলি- যা অধিকাংশ লোকই জানে না। সুতরাং যে অস্পষ্ট বিষয়াবলি থেকে দূরে থাকবে তা তার সম্মান ও দীনদারি উভয়ের জন্য কল্যাণকর সাব্যস্ত হবে। পক্ষান্তরে যে এতে পতিত হবে সে হারামে লিপ্ত হবে। 

যেমন- রাখাল সংরক্ষিত এলাকা থেকে সভয়ে দূরে থাকে যাতে সে এতে ঢুকে না পড়ে। মনে রেখ প্রত্যেক রাজারই কিছু সংরক্ষিত স্থান থাকে আরও মনে রেখ আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা (যার সীমানা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ) হলো, তাঁর হারাম ঘোষিত বিষয়গুলি। 

তোমরা মনে রেখ, নিশ্চয় (মানুষের) শরীরে একটি মাংসপিন্ড আছে। সেটা যদি সুস্থ থাকে তাহলে সারা দেহ সুস্থ আর সেটা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে সারা শরীর অসুস্থ হয়ে যায়। মনে রেখ সেটা হলো কলব বা আত্মা।’ -(বুখারি : ৫২, মুসলিম : ১৫৯৯)

আদেশসমূহ যথা—ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব ইত্যাদি। আর নিষেধসমূহ যথা— হারাম ও মাকরুহ ইত্যাদি।

শরীয়তের বিধান ও পরিভাষাগুলোর একটি হলো মাকরুহ। এর অর্থ- অপছন্দনীয়। মাকরুহ হারামের কাছাকাছি একটি শব্দ। মূলত ‘মাকরুহ’ শব্দটি ‘মাহবুব’-এর বিপরীত। মাহবুব অর্থ প্রিয়, মাকরুহ অর্থ, অপ্রিয়, অপছন্দনীয়।

শরিয়তের পরিভাষায় ‘মাকরুহ’ দুই প্রকার। ১- মাকরুহ তাহরীমি ২-মাকরুহ তানযীহি।

মাকরুহ তাহরীমি এটি (إلى الحرام أقرب) হারামের কাছাকাছি। এজন্য পরিভাষায় মাকরুহ তাহরীমি বলা হয়, যা ত্যাগ করার জন্য শরিয়ত  শক্তভাবে বলেছে তবে তা (دليل ظني) তথা ধারণানির্ভর দলিল প্রমাণিত; (دليل قطعي) তথা অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। এটি সাধারণত ওয়াজিবের বিপরীতে ব্যবহার হয়। সুতরাং এধরণের মাকরুহ ত্যাগ না করলে গুনাহ আছে

পক্ষান্তরে মাকরুহ তানযীহি এটি (إلى الحل أقرب) হালাল বা জায়েযের কাছাকাছি। এজন্য পরিভাষায় মাকরুহ তানযীহি বলা হয়, যা ছেড়ে দেয়ার জন্য শরিয়ত বলেছে, তবে শক্তভাবে বলেনি বিধায় ছেড়ে দিলে সাওয়াব আছে তবে করলে গুনাহ নেই। এটি সাধারণত সুন্নত কিংবা মুস্তাহাবের বিপরীতে ব্যবহার হয়। -(আততাওযীহ ওয়াততালবীহ ২/১২৬)

এনটি

Link copied